logo

শবেবরাতে যেসব আমল করবেন 

শবেবরাতে যেসব আমল করবেন 

শবেবরাত হলো মুক্তির রাত, ভাগ্যের রাত। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে পালিত হয় পবিত্র শবেবরাত। মুসলিম জাতির কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। গুনাহ ক্ষমা করেন। রিজিক নির্ধারণ করেন। এ রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বেশি বেশি নফল ইবাদত বা আমল করা ইমানি দায়িত্ব। এখানে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো—

নফল নামাজ
নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পরকালে প্রথমে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। কারও ফরজ নামাজে কোনো ঘাটতি থাকলে আল্লাহ তাআলা নফলের মাধ্যমে সে ঘাটতি পূরণ করবেন। ফরজের পাশাপাশি তাই নফল নামাজে মনোনিবেশ করা উচিত। শবেবরাতে নফল নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকেও প্রমাণিত। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়তে লাগলেন। তিনি নামাজের সিজদা এত দীর্ঘায়িত করলেন, আমার ধারণা হলো তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থা দেখে আমি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরে নাড়া দিলাম। এটি একটু নড়চড়া করলে আমি ফিরে এলাম।’ তিনি নামাজ শেষ করে বললেন, ‘হে আয়েশা, তুমি কি ধারণা করেছ, আল্লাহর নবী তোমার হক (অধিকার) নষ্ট করেছেন?’ আমি বললাম, ‘না, আল্লাহর শপথ! তবে দীর্ঘ সিজদা দেখে আপনার মৃত্যুর বিষয়ে শঙ্কা করছিলাম।’ তিনি বললেন, ‘তুমি জানো এটি কোন রাত?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’ তিনি বললেন, ‘এটি মধ্য শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন। অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। হিংসুকদের তাদের অবস্থার ওপরই ছেড়ে দেন।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৫৫৪)। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতে নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বা বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেননি। তাই দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। নামাজে কোরআন তিলাওয়াত, রুকু-সিজদায় দীর্ঘ দোয়া ও একাগ্রতা বজায় রাখা মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

কোরআন তিলাওয়াত
কোরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদতগুলোর একটি। শবেবরাতে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত বরকতময়। যারা নিয়মিত তিলাওয়াত করেন না, তাদের জন্য এ রাতটি নতুন করে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কোরআনের একটি হরফ পড়বে, সে একটি সওয়াব পাবে। একটি সওয়াব দশ সওয়াব সমতুল্য। তিনি বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ লাম মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৯১)

দোয়া, ইসতেগফার ও জিকির 
এ রাতে নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করা, ইসতেগফার পড়া এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চেয়ে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রাতে বেশি বেশি জিকির করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

 

কবর জিয়ারত
রাসুলুল্লাহ (সা.) শবেবরাতে কবর জিয়ারত করেছেন। কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্য হবে মৃত্যুর কথা স্মরণ, আখেরাতের প্রস্তুতি ও মৃতদের জন্য দোয়া করা। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না)। আমি (তাঁর সন্ধানে) বের হলাম। এসে দেখলাম তিনি ‘বাকি’ কবরস্থানে আছেন। তিনি বলেন, তুমি কি ভয় করছ আল্লাহ ও তার রাসুল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি অনুমান করলাম আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানে (শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) দুনিয়ার কাছের আকাশে অবতীর্ণ হন। তারপর কালব গোত্রের বকরি পালের পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে তিনি মাফ করে দেন।’ (জামে তিরিমিজি, হাদিস : ৭৩৯) 

এছাড়াও এ রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অধিক দরুদ পাঠ, সালাতুত তাসবিহের নামাজ এবং বিগত দিনের কোনো কাজা নামাজ থাকলে সেগুলো আদায় করা যেতে পারে। তবে শবেবরাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতির নামাজ নেই। এ রাতে মোমবাতি প্রজ্বলন, আতশবাজি ও হালুয়া-রুটির ব্যবস্থা করা উচিত নয়।