সালাতুল হাজতের দোয়ার উচ্চারণ ও অর্থ

আমাদের জীবনে কত কিছুর প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজন পূরণে আমরা নানাবিধ চেষ্টা করি। প্রয়োজন পূরণে মুমিন হিসেবে আমরা উপকরণ অবলম্বন করি ঠিকই, তবে কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনের ক্ষেত্রে ভরসা রাখি একমাত্র আল্লাহর ওপর।
মুমিন হিসেবে আমাদের সবকিছুতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। আমাদের ছোট-বড় যত প্রয়োজন আছে, এগুলো পূরণে তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার বিকল্প নেই। তিনি চাইলে আমাদের জীবনের সমস্ত প্রয়োজন মুহূর্তে সমাধান হয়ে যাবে।
যে কোনো প্রয়োজন পূরণে আমরা সালাতুল হাজত বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ পড়তে পারি। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি।
সালাতুল হাজত আরবি শব্দ, অর্থ প্রয়োজন পূরণের নামাজ। এটিকে হাজতের নামাজও বলা হয়। এটি নফল নামাজ। পড়লে সওয়াব আছে, না পড়লে গুনাহ নেই। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সালাতুল হাজত পড়তেন। সাহাবিরাও নিয়মিত এ নামাজ পড়তেন। যে কোনো প্রয়োজনে তারা সালাতুল হাজত পড়তেন।
সালাতুল হাজত পড়ার নিয়ম
হাজতের নামাজ পড়ার নির্দিষ্ট কোনো নিয়মনীতি নেই। উত্তমভাবে অজু করে সাধারণ নামাজের মতোই পড়া যায়। এর জন্য আলাদা কোনো সময়ও নেই। নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যে কোনো দিন যে কোনো সময় পড়া যায়। আলাদা করে নিয়তেরও প্রয়োজন নেই। মনের ইচ্ছায় নিয়ত। এভাবে নিয়ত হতে পারে, ‘আমি কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ছি।’
সালাতুল হাজত দুই রাকাত বা চার রাকাত পড়া যায়। নামাজ শেষে আল্লাহর প্রশংসা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়বে। এরপর নিজের মনের কথা ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। প্রয়োজনের কথা বলবে।
সালাতুল হাজত শেষে যে দোয়া পড়বেন
আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির আল্লাহর কাছে বা কোনো আদম সন্তানের কাছে প্রয়োজন রয়েছে, সে যেন প্রথমে উত্তমভাবে অজু করে। এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করে। এরপর দোয়া পড়ে,
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ، وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ، وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আস আলুকা মুজিবাতি রাহমাতিক, ওয়া আজা ইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গানিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসমিন, লা তাদালি জাম্বান ইল্লা গাফারতাহু, ওয়া লা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু, ওয়া লা হাজাতাং হিআ লাকা রিজান ইল্লা কাজাইতাহা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। তিনি ধৈর্যশীল ও মহামহিম। মহান আরশের মালিক আল্লাহ খুবই পবিত্র। সব প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (হে আল্লাহ) আমি তোমার কাছে তোমার রহমত লাভের উপায়সমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের কঠিন প্রতিশ্রুতি, প্রত্যেক ভালো কাজের ঐশ্বর্য এবং সব খারাপ কাজ থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি। হে মহা অনুগ্রহকারী, আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা করো, আমার প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয়, তা পরিপূর্ণ করে দাও।’
সালাতুল হাজত নামাজ শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময় একটি দোয়াটি পড়তেন। দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বানা, আ তিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাতাও, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান্নার।
অর্থ: হে আল্লাহ, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের দুনিয়াতে মঙ্গল দিন এবং আখেরাতেও মঙ্গল দিন। জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন।


