কোরবানির গোশত কি বিক্রি করা যাবে

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ত্যাগ ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। তাই কোরবানির পশু এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুর ব্যবহারে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির গোশত বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ কোরবানির পশু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তাই এর গোশত বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা ইবাদতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।
হাদিসে আছে, হজরত আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ও অন্যান্য অংশ সদকা করে দিই এবং জবাইকারীর পারিশ্রমিক সেখান থেকে না দিই। (সহিহ বুখারি)
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানির পশুর কোনো অংশ—যেমন গোশত, চামড়া, চর্বি বা হাড় বিক্রি করে ব্যক্তিগত কাজে অর্থ ব্যবহার করা বৈধ নয়। যদি কেউ ভুলবশত বিক্রি করে, তাহলে সেই অর্থ সদকা করে দিতে হবে।
কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বণ্টন করা এবং গরিব-মিসকিনকে দান করা জায়েজ ও উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে খাওয়াও।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৮)
সাধারণত কোরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম—এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর জন্য এবং এক ভাগ গরিবদের জন্য। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে।
কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতি অর্জন। তাই এ ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। কোরবানির গোশত যেন ব্যবসার বস্তু না হয়ে বরং ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার মাধ্যম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
