logo

শবেবরাতে বিশেষ নামাজ আছে?

শবেবরাতে বিশেষ নামাজ আছে?

শবেবরাত মানে মুক্তির রাত। হাদিসের পরিভাষায় একে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত বলা হয়। এ রাতে আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা করেন। রিজিক দেন। রোগীকে নিরাময় করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আসে, তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো এবং এর দিনে রোজা রাখো। কেননা এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে এসে বলেন, কে আছ আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব। কে আছ রিজিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব। কে আছ রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করব। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহ্বান করেন)।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৮)

বরাতের রাতে বিশেষ কোনো নামাজ নেই। নামাজের বিশেষ পদ্ধতিও নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতে নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা বা বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেননি। দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া যেতে পারে। নামাজে ‘অমুক সুরা’ বা ‘অমুক আয়াত’ পড়তে হবে, এ রকম নিয়মও নেই। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘এই রাতকে কেন্দ্র করে রাত জেগে বিশেষ নিয়মে কোনো নামাজ নেই। এমনকি নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত নামাজ আদায় কিংবা কোনো সুরা নির্দিষ্ট কয়েকবার পড়তে হবে, হাদিসে এমন কোনো কথাও আসেনি।’

 

শবেবরাতে নফল নামাজ পড়ার বিশেষ সওয়াব আছে। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়তে লাগলেন। তিনি নামাজের সিজদা এত দীর্ঘায়িত করলেন, আমার ধারণা হলো তিনি মারা গেছেন। এ অবস্থা দেখে আমি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরে নাড়া দিলাম। একটু নড়চড়া করলে আমি ফিরে এলাম। তিনি নামাজ শেষ করে বললেন, ‘হে আয়েশা, তুমি কি ধারণা করেছ, আল্লাহর নবী তোমার হক (অধিকার) নষ্ট করেছেন?’ আমি বললাম, ‘না, আল্লাহর শপথ! তবে দীর্ঘ সিজদা দেখে আপনার মৃত্যুর বিষয়ে শঙ্কা করছিলাম।’ তিনি বললেন, ‘তুমি জানো এটি কোন রাত?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন।’ তিনি বললেন, ‘এটি মধ্য শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন। অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। হিংসুকদের তাদের অবস্থার ওপরই ছেড়ে দেন।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৫৫৪)

ফজিলতপূর্ণ এ রাতে যারা পবিত্র কোরআন পড়তে পারেন, তাদের উচিত কোরআন পড়া। এ ছাড়া নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া, আল্লাহর নামে তাসবিহ বা জিকির পড়া, দোয়া করা, সাধ্যমতো দান-সদকা, পরদিন রোজা পালন ও কবর জিয়ারত করা যেতে পারে। 

মনে রাখতে হবে, শবেবরাতের সব আমলই নফল। নফল আমল নিবেদিতপ্রাণে একাকী করাই উত্তম। নফল ইবাদত করতে গিয়ে কাউকে বিরক্ত করা যাবে না।