logo

অপবিত্র ও হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে?

অপবিত্র ও হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে?

ইসলাম কল্যাণের ধর্ম। মানুষকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করার ধর্ম। এ ধর্মের প্রতিটি বিধান দেওয়া হয়েছে মানুষের ভালোর জন্য। মুসলমান যখন দুঃখ-কষ্ট পায়, বিনিময়ে গুনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা ও রোগ যা দিয়েই একজন মুমিন আক্রান্ত হোক, এমনকি কোনো উদ্বেগও যদি তাকে উদ্বিগ্ন করে, তবে আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩১৮)

এ কারণেই অসুস্থ অবস্থায় কোনো মুমিনের পাপে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ পাপের কারণে ওই পুরস্কার ও সুবিধা থেকে সে বঞ্চিত হবে। 

ইসলাম বিশেষজ্ঞদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নাপাক, অপবিত্র ও হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। তবে একান্ত অপরাগ হলে দ্বীনদার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনমতো হারাম বা অপবিত্র জিনিস ব্যবহার করে চিকিৎসা করা যাবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহার করা যাবে না। 

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যেসব বস্তু হারাম করেছেন, এতে তিনি তোমাদের জন্য কোনো আরোগ্য রাখেননি। তার এ কথাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকেই সংগৃহীত।’ (মুসতাদরাক লিল হাকিম, হাদিস: ৭৫০৯)

আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ অপবিত্র বস্তু দিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭০)। হাদিসে ‘খবিস’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এ শব্দের মধ্যে হারাম, অপবিত্র ও ঘৃণিত সব বস্তু অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বলা ব্যাপক অর্থবোধক শব্দগুলোর অন্যতম এটি। অর্থাৎ যত অপবিত্র বস্তু তাঁর যুগে ছিল অথবা পরবর্তীকালে উদ্ভব ঘটবে, সবই নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ফলে চিকিৎসা বা নিরাময় লাভে তা ব্যবহার করা যাবে না। 

তারিক ইবনে সুওয়াইদ জুফি (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নিষেধ করলেন অথবা মদ প্রস্তুত করাকে খুব খারাপ মনে করলেন। এরপর তারিক (রা.) বললেন, ‘আমি তো ওষুধ প্রস্তুত করার জন্য মদ বানাই।’ তিনি বললেন, ‘এটি তো (রোগ নিরাময়কারী) ওষুধ নয়; বরং এটি নিজেই রোগ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৮৪)

 

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেউ যদি হারাম বা অপবিত্র জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করতে একান্ত বাধ্য হয় এবং হারাম বা অপবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা না থাকে, তাহলে তার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে হারাম বা অপবিত্র জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে। কারণ কোরআনে জীবন সংকটাপন্ন হলে হারাম জিনিস খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

দুররুল মুখতার কিতাবে হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসার একটি সুস্পষ্ট মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। যদি নিশ্চিত হওয়া যায়, হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করলে আরোগ্য আসবে এবং এটি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও না থাকে, তাহলে হারাম জিনিস দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে। (আদ-দুররুল মুখতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১০)