আল্লাহ ছাড়া যে ৫ বিষয়ে আর কেউই জানে না

আল্লাহ জ্ঞানার্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বপ্রথম পড়ার আদেশ দিয়েছেন। শেখার নির্দেশ দিয়েছেন। জ্ঞান মানুষকে সভ্য করে তোলে। ভালো-মন্দের পার্থক্য ও অন্যের থেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের সুযোগ দেয়। আল্লাহ নিজেও জ্ঞানীদের অন্যদের থেকে আলাদা বলে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘বলো, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৯)
আল্লাহ মানুষকে শেখার আগ্রহ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ শিখতে চায়। মানুষ যত জ্ঞান অর্জন করুক না কেন, কিছু বিষয় এমন রয়েছে, যা মানুষের জ্ঞানের আওতার বাইরে এবং একমাত্র আল্লাহরই জানা। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয় এমন রয়েছে, যার জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই আছে। যথা—কেয়ামত কখন হবে, বৃষ্টি, মাতৃগর্ভের অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান ও মৃত্যুর স্থান।
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কেয়ামতের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছেই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত।’ (সুরা লুকমান, আয়াত: ৩৪)
কেয়ামত কোন বছর কোন তারিখে সংঘটিত হবে, এটা আল্লাহই শুধু জানেন। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে কী আছে, তা তিনি জানেন। সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে, কোন আকৃতি-প্রকৃতির, কতটুকু রিজিক প্রাপ্ত হবে এবং ভবিষ্যতে কী অর্জন করবে, কোন স্থানে মৃত্যুবরণ করবে—এগুলো কেবল আল্লাহই জানেন। প্রথম তিন বস্তু সম্পর্কিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে যদিও এ কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে, আল্লাহ ছাড়া কারও এগুলোর জ্ঞান নেই। কিন্তু বাক্য বিন্যাস ও প্রকাশভঙ্গি থেকে এ কথাই বোঝা যায় যে, এসব জ্ঞান শুধু আল্লাহর অসীম জ্ঞান ভান্ডারেই রয়েছে। অবশ্য অবশিষ্ট বস্তুদ্বয় সম্পর্কে এ কথা স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও এগুলোর তথ্য ও তত্ত্ব জানা নেই।
কেয়ামত: আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো উপাসক নেই, তিনি কেয়ামাত দিবসে সবাইকে একত্র করবেনই, এতে সন্দেহ নেই, আল্লাহ অপেক্ষা আর কার কথা অধিক সত্য হতে পারে?’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৭)
বৃষ্টি: কোরআনে আছে, ‘যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা ও আকাশকে ছাদ করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দিয়ে তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, কাজেই জেনে-বুঝে কাউকেও আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করো না।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২২)
মাতৃগর্ভ: আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তে, এরপর মাংসপিণ্ডকে পরিণত করি হাড্ডিতে, পরে হাড্ডিকে আবৃত করি মাংস দিয়ে, এরপর তাকে এক নতুন সৃষ্টিতে উন্নীত করি।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ১২-১৪)
ভবিষ্যৎ: আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকেই চিন্তা করে দেখুক, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১৮)
মৃত্যু: পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)। আল্লাহ বলেন, ‘কিন্তু তিনি একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে সময় দেন। তাদের সময় এসে গেলে এক মুহূর্তও আগে-পরে করা হয় না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৬১)
এই পাঁচ বিষয় নিয়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরায় বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। আল্লাহ এসব আয়াতে আমাদের সচেতন করেছেন, যেন আমরা অহংকারে আত্মমগ্ন না হই, সীমা লঙ্ঘন না করি এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি।
.png)


