মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী না মানলে মুসলিম নয়: দেওবন্দের প্রিন্সিপাল

যারা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশেষ নবী হিসেবে বিশ্বাস করে না, তারা মুসলমান নয় বলে জানিয়েছেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল হজরত মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আফতাবনগর মাদ্রাসায় খতমে নবুওয়ত কনফারেন্সে তিনি এ কথা জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেওবন্দের প্রিন্সিপাল বলেন, ইসলামের আকিদার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের সুস্পষ্ট ঘোষণার আলোকে যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চূড়ান্ত নবুওয়াত অস্বীকার করে বা অন্য কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করে, সে ইসলামের মৌলিক আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়।
বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষা এবং আকাবিরে দেওবন্দের মতাদর্শের আলোকে ইমান-আকিদা সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কাদিয়ানীসহ সব বাতিল মতবাদ ও বিভ্রান্তিকর আদর্শের অপপ্রচার মোকাবিলায় ইলম, দাওয়াত, হিকমাহ ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনার মাধ্যমে সমাজে বিশুদ্ধ আকিদার প্রসার ঘটাতে হবে।
তার মতে, আকাবিরে দেওবন্দ সবসময় কোরআন, সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজও মুসলমানদের ইমান-আকিদা রক্ষা, দ্বীনের মৌলিক বিশ্বাস সংরক্ষণ এবং বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তিনি সর্বস্তরের আলেম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশুদ্ধ ইসলামি আকিদা ও আদর্শের ওপর অটল থেকে কোরআন-সুন্নাহর অনুসরণ এবং আকাবিরে দেওবন্দের মতাদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির নায়েবে আমির ও আফতাবনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা ফয়সাল ওমর ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দেওবন্দ মাদ্রাসার শুরা সদস্য মাওলানা হাসান মাহমুদ রাজস্থানী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জামিয়া এমদাদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা শাব্বির আহমদ রশিদ, মাওলানা ড. জহিরুল ইসলাম, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা শুয়াইব ইব্রাহিম, মুফতি আব্দুল মাজীদ, মুফতি আবু যর, মাওলানা ইলিয়াস কাসেমী ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।
