মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স রেখে মারা গেলে করণীয় কী

দেশে প্রতিটি সিম কোম্পানি থেকে গ্রাহকদেরকে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার সুযোগ দেওয়া আছে। মানুষ প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেন। পরবর্তীতে সিমে টাকা রিচার্জ করলে তৎক্ষণাৎ ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কেটে নেওয়া হয়। প্রশ্ন হলো, ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে পরিশোধের আগেই যদি গ্রাহক মারা যান, তাহলে করণীয় কি?
ইসলামে ঋণ পরিশোধকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধে অবহেলা জায়েজ নয়। যত দ্রুত সম্ভব ঋণ শোধ করে দেওয়া উত্তম। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের প্রথম দায়িত্ব হলো, মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার ঋণ পরিশোধ করা। ঋণ শোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিশরা পাবে। আল্লাহ বলেন, ‘এসব (ওয়ারিশদের প্রাপ্য) অসিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পরই দেওয়া হবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১১)
মৃতের সম্পদ ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না হলে অন্য কেউ পরিশোধ করলে তা আদায় হয়ে যাবে।
মোবাইল কোম্পানির কাছ থেকে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স মূলত ঋণ। সাধারণ ঋণের মতো এই ঋণ পরিশোধ করাও গ্রাহকের ওপর আবশ্যকীয় দায়িত্ব। ব্যক্তি যদি মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে তা পরিশোধ না করেই মারা যান, তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটা ওয়ারিশদের দায়িত্ব।
ফাতাওয়া ও মাসায়েলের মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করলে তা যথাসময়ে পরিশোধ করা আবশ্যক। মোবাইল কোম্পানির কাছ থেকে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সও ঋণ। এই ঋণ পরিশোধ করা গ্রাহকের ওপর আবশ্যকীয় দায়িত্ব। মোবাইলে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা ঋণ গ্রহণ করার পর তা পরিশোধ না করেই কেউ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তার উত্তরাধিকারী বা আত্মীয়-স্বজনরা ঋণ পরিশোধ করে দেবেন।’
ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের নিয়ত ও আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আকস্মিক মৃত্যুর কারণে যদি তা পরিশোধ করতে না পারেন, তবে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম রহমতে তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যুক্ত করেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধের মানসিকতা থাকতে হবে। ইচ্ছা করে ঋণ পরিশোধ না করা মারাত্মক গুনাহ। এতে বান্দার হক নষ্ট হয়। এজন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মৃতের উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব হলো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিমে রিচার্জ করে বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওনা টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা।’
