সুরা ফাতেহার পর আমিন বলতে হয় কেন

সুরা ফাতেহার পর আমিন বলা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদিসে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নামাজে যেমন ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারীর জন্য আমিন বলা সুন্নত, তেমনি মুকতাদির (ইমামের অনুসরণকারী) জন্যও ইমামের ‘গায়রিল মাগজুবি আলাইহিম ওয়া লাজ জাল্লিন’ শোনার পর আমিন বলা সুন্নত। তবে না বললেও কোনো অসুবিধে নেই।
সুরা ফাতেহা শেষে আমিন বলার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইমাম যখন আমিন বলেন, তখন তোমরাও আমিন বলো। কেননা, যার আমিন (বলা) ও ফেরেশতাদের আমিন (বলা) এক হয়, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)ও আমিন বলতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০২)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, আমিন কোনো সাধারণ শব্দ নয়, বরং গুনাহ মাফের একটি সুবর্ণ সুযোগ।
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুরা ফাতেহার পর আমিন মুখে উচ্চারণ করতে হবে। আমিন মনে মনে পড়ার বিষয় নয়, বরং নামাজের অন্যান্য তাসবিহের মতো আমিনও সহিহ-শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে হবে। তবে আস্তে উচ্চারণ করা হবে নাকি জোরে, এ নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য আছে। তবে দুভাবেই পড়া যায়। যে নিয়মই অনুসরণ করা হোক সুন্নত আদায় হবে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মুসলিম বাংলার এক ফতোয়ায় লেখা হয়েছে, ‘নামাজে আমিন জোরে এবং আস্তে বলা উভয় প্রকারের হাদিসই বর্ণিত আছে। তবে আলেমরা কোরআন সুন্নাহ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার সাহাবিদের আমল পর্যালোচনা করে আস্তে আমিন বলাকে উত্তম হিসেবে মত প্রকাশ করেছেন। যদি কেউ মনে করেন তিনি জোরে আমিন বলবেন তাহলে তিনি বলুক। তাতে অন্যদের এটা নিয়ে বেশি মাথা ঘামানো উচিত নয়। তাছাড়া এটা একটা মুস্তাহাব আমল। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা মোটেও কাম্য নয়।’
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমিন শব্দটি সুরা ফাতেহার মধ্যে নেই। সুরা ফাতেহার সাত আয়াত, এর মধ্যে আমিন শব্দ নেই। এর সঙ্গে আমিন যুক্ত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি জামায়াতের নামাজে ইমামের সুরা পড়ার আমিন বলতে বলেছেন। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। গুনাহ মাফ হয়।’
সুরা ফাতেহার পর আমিন বলা সুন্নত জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আমিন জোরে বা আস্তে—দুভাবেই বলার বিষয়ে হাদিস আছে। জোরে বা আস্তে বলার বিষয়ে গণ্ডগোল করার কথা হাদিসে নেই। এটা নিয়ে মারামারি করা কোনো অবস্থাতেই জায়েজ নেই।’



