যেমন মানুষকে বন্ধু বানাতে বলেছেন মহানবী (সা.)

মানুষ একা চলতে পারে না। একে অপরের সঙ্গে মিশতে হয়। চলতে হয়। কথা বলতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো, পুণ্যবান ও সৎ মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। পুণ্যবানদের সঙ্গে ওঠাবসা করতে হবে। বন্ধু নির্বাচনেও খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভালো বন্ধু জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে, মন্দ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায়ই মুসলিমদের এ বিষয়ে সাবধান করতেন। সৎসঙ্গী নির্বাচনের তাগিদ দিতেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ১১৯)
যাদের সঙ্গে মানুষ নিয়মিত ওঠাবসা করে, তাদের স্বভাব ও চরিত্র দ্রুত তার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। কারণ মেলামেশা, ওঠাবসা ও দীর্ঘ আলাপের কারণে মানুষ সঙ্গীদের চরিত্র ধারণ করে খুব সহজে। অনেক সময় তার মাঝে সেই চরিত্র প্রবেশ করতে থাকে খুব ধীর গতিতে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম অনুসরণ করে। কাজেই তোমাদের সতর্ক থাকা উচিত যে, তুমি কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছ।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩
অসৎসঙ্গের কারণে মানুষের জীবনে যে পরিবর্তন ঘটে তা একসময় ধর্ম পরিবর্তন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এ জন্য সঙ্গলাভের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আবু মুসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সৎসঙ্গী ও অসৎসঙ্গীর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের মতো। আতর বিক্রেতার কাছে গেলে তুমি রেহাই পাবে না। হয় তুমি আতর কিনবে, না হয় আতরের সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের কাছে গেলে তার হাপর হয় তোমার শরীর বা কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৯৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম সুন্নাহ হলো, সৎ, পুণ্যবান ও মুমিনদের সংস্রব গ্রহণ করা। মুমিন ছাড়া কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে মেশা যাবে না। আল্লাহভীরু ছাড়া ভিন্ন কাউকে খাবারও খাওয়ানো যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ছাড়া আর কারও সংস্রবে যেয়ো না। আর তোমার খাবার যেন শুধু তাকওয়ার অধিকারী মুমিরাই খায়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩২)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন ছাড়া অন্য কাউকে সঙ্গী নির্বাচন করবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৯৫)
ইমানদাররা পরস্পরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয়। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয়। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয়, আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।’ (সুরা তওবা, আয়াত: ৭১)
পরকালের কল্যাণের জন্য এই দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ বন্ধু নির্বাচন করতে হবে পরিপূর্ণ ইমানদার দেখে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং বিশ্বাসীরা, যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় ও বিনত হয়।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৫৫)
যে কাউকে বন্ধু বানানো যায় না। নামাজি, সত্যবাদী, দীনদার ও পরোপকারীকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। কোরআনে বন্ধু নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি দৃঢ় চিত্ত হয়ে তাদের সঙ্গে অবস্থান করো, যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানে। পার্থিব জীবনের শোভা ও চাকচিক্য কামনায় তুমি তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না। তুমি তার আনুগত্য করো না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে উদাসীন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির আনুগত্য করে আর যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমালঙ্ঘনমূলক।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত: ২৮)
আল্লাহ তাআলা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধুত্ব তৈরি করতে হবে। ইমানদার, সত্যবাদী ও পরোপকারীকে শুধু আল্লাহর জন্য বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এতে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন। এ ছাড়া সৎ, বুদ্ধিমান, মেধাবী, ধৈর্যশীল, চরিত্রবান, ধার্মিক ও পরোপকারী বন্ধু দুনিয়াতেও উপকারে আসে।
.png)

