শবেকদর চেনার ৮টি সহজ উপায়

কদরের রাত বছরের সেরা রাত। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রাত কবে, তা কোরআন-হাদিসের কোথাও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাদিসে এ রাতটি চেনার কিছু আলামত বা নিদর্শন পাওয়া যায়।
২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। অমুক রাতই শবেকদর, এটি বলার সুযোগ নেই। তবে ২৬ রমজান দিবাগত রাত শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে কোনো কোনো ইসলামি স্কলার মতামত দিয়েছেন। আবু কিলাবা (রহ.) বলেন, ‘লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। কোনো বছরে ২১, কোনো বছরে ২৩, কোনো বছরে ২৫, কোনো বছরে ২৭ বা কোনো বছরে ২৯ তারিখে হয়ে থাকে। অথবা একই বছরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন তারিখে শবেকদর আসে।’ (সুনানে তিরমজি, হাদিস: ৭৯২)
কোন রাতে কদর হবে, এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। কদরের রাতের সঠিক তারিখ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। এরপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হলো। এরপর আমার কোনো এক স্ত্রী আমাকে জাগালেন। পরে আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হলো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৬)
আল্লাহ হয়তো তাঁকে এ জন্য ভুলিয়ে দিয়েছেন যে, যখন মানুষ জানবে, অমুক রাতে কদর হবে, তখন তারা অন্যান্য রাতে বেশি ইবাদত করতে চাইবে না। শুধু নির্ধারিত রাতের অপেক্ষায় থাকবে।
যে রাতটি শবেকদর হবে, সেটি বোঝার কিছু আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হলো—
১. কদরের রাত হবে রমজান মাসে। কোরআনে সুরা কদরের ১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে।’ সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে রমজান মাসে কোরআন নাজিলের কথা বিবৃত হয়েছে। এতে বোঝা যায়, কদরের রাতটি আছে রমজান মাসে।
২. রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হবে কদর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৫৬)
৩. রমজানের শেষ সাত দিনে এ রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর কয়েকজন সাহাবিকে স্বপ্নের মাধ্যমে রমজানের শেষের সাত রাতে কদরের রাত দেখানো হয়। (এ শুনে) রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের মতো দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৫)
৪. ২১, ২৩, ২৫ অধবা ২৯তম রাতও লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের রাত বা ২৭তম রাত কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৬২)
৫. রাতের আবহাওয়া হবে নাতিশীতোষ্ণ। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
৬. মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে। সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
৭. ওই রাতে বৃষ্টিও হতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২০৯৩০)
৮. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। (ইবনে খুজাইমা, ২১৯১)