logo
Advertisement

আয়নায় মুখ দেখার সময় যে দোয়া পড়বেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আয়নায় মুখ দেখার সময় যে দোয়া পড়বেন
আয়নায় নিজের মুখাবয়ব দেখছেন এক ব্যক্তি। ছবি: ডিপোজিট ফটোস

পৃথিবীতে আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর ও সেরা সৃষ্টি মানুষ। মানুষের সব অঙ্গে-প্রত্যঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মুখাবয়ব। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সর্বোচ্চ সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা তিন, আয়াত: ৪)

মানুষ স্বভাবতই আয়নায় নিজের মুখ দেখে। আয়না দেখা ও পরিপাটি থাকা মহানবীর (সা.) সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও আয়না দেখতেন এবং দোয়া পড়তেন। তবে তিনি কী দোয়া পড়তেন, তা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো-

১. আয়েশা (রা.) বলেন, আয়নায় মুখ দেখার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) বলতেন,

اللَّهُمَّ أَحْسَنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহসানতা খালকি, ফা আহসিন খুলুকি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার চেহারা সুন্দর করেছেন। অতএব আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন। (সহিহুল জামে, হাদিস: ১৩০৭)

২. আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর মুখ আয়নায় দেখতেন, তখন বলতেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ ، اللَّهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِي فَحَسِّنْ خُلُقِي

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি, আল্লাহুম্মা কামা হাসসানতা খালকি, ফা হাসসিন খুলুকি।

অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, হে আল্লাহ, যেমনভাবে আমার চেহারা সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন। (আমলুল য়াওমি ওয়াল লাইলা, হাদিস: ১৬৩)

৩. ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়নায় চেহারা দেখার সময় বলতেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي حَسَّنَ خَلْقِي وَخُلُقِي ، وَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি হাসসানা খালকি ওয়া খুলুকি, ওয়া জানা মিন্নি মা শানা মিন গায়রি।

অর্থ: আল্লাহর শুকরিয়া, যিনি আমার চেহারা ও আচরণে সৌন্দর্য দিয়েছেন এবং আমাকে অন্য কারও অসৌন্দর্য থেকে রক্ষা করে সুন্দর করেছেন। (আবু ইয়ালা, হাদিস: ২৬১১)

৪. আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়নায় মুখ দেখার সময় বলতেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَوَّى خَلْقِي فَعَدَلَهُ ، وصَوَّرَ صُورَةَ وَجْهِي فَحَسَّنَهَا، وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি সাওয়া খালকি ফাআদালাহু, ওয়া সাওয়ারা সুওরাতা ওয়াজহি ফা হাসসানাহা, ওয়াজা আলানি মিনাল মুসলিমিন।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে ন্যায়সঙ্গতার সঙ্গে পূর্ণতা দিয়েছেন। আমার মুখাবয়ব সুন্দরভাবে তৈরি করেছেন এবং আমাকে মুসলিম বানিয়েছেন।

৫. আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাতে আয়না নিয়ে তাতে তাকিয়ে বলতেন,

الحمد لله ، أكمل خلقي ، وحسن صورتي ، وَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহ, আকমালা খালকি, ওয়া হাসসানা সুওরাতি, ওয়া জানা মিন্নি মা শানা মিন গায়রি।

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার অঙ্গ-সৌষ্ঠবের পূর্ণতা দিয়েছেন এবং আমার অবয়ব সুন্দর করেছেন। অন্যের অসুন্দরতা থেকে আমাকে রক্ষা করে সৌন্দর্য দিয়েছেন। (জাওয়ায়েদুজ জুহদ, ১১৭৪)

আয়নায় মুখ দেখাবিষয়ক যেসব হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে হাদিসবিশারদদের নানা মতামত রয়েছে। তারা বেশ কিছু হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। তবে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করতে অসুবিধে নয় বলে জানিয়েছন আলেমরা।