Advertisement

যে কারণে মিসওয়াক করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যে কারণে মিসওয়াক করতে বলেছেন মহানবী (সা.)
মিসওয়াক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো)। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত বিষাক্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা হয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। যেমন—ত্বকে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া, পেটের ফোলা ভাব, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যার পাশাপাশি ক্লান্তিসহ নানা শারীরিক জটিলতা হয়ে থাকে। মানুষের নিরাপদ জীবন-যাপন ও সুস্থতার জন্য হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় পনেরশ বছর আগে মিসওয়াক করার পরামর্শ দিয়েছেন। মিসওয়াক করলে টুথপেস্ট ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এতে বেঁচে থাকা যায় ক্ষতিকর বিষয় থেকে।

গাছের ডাল ইত্যাদির মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করা হলো মিসওয়াক করা। মিসওয়াক করা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। অজু ও নামাজের সময় মিসওয়াক করা সুন্নত। অন্যান্য সময় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। এতে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৯)

মিসওয়াক ইসলামের উন্নত রুচি ও পরিচ্ছন্নতার পরিচয়ক। পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মুমিনের অনন্য ও স্বভাবজাত রুচি-বৈশিষ্ট্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দশটি বিষয় স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে একটি মিসওয়াক করা।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬১)

মিসওয়াকের গুরুত্ব

মিসওয়াক করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে মিসওয়াক প্রসঙ্গে ৪০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে আমি আশঙ্কাবোধ করলাম যে (মিসওয়াক করে) আমি আমার মুখের সম্মুখ দিক ক্ষয় করে দেব।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২২২৬৯)

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) রাতে বা দিনে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, তখনই অজু করার আগে মিসওয়াক করতেন।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৩৫২)

মিসওয়াক করার ফজিলত

মিসওয়াক করার ইহ ও পরকালীন অনেক উপকারিতা রয়েছে। আল্লামা ইবনে আবেদিন বলেছেন, মিসওয়াকের উপকারিতা সত্তরেরও অধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র উপকার হচ্ছে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় আর সর্বোচ্চ উপকার হচ্ছে মিসওয়াক করলে মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হয়।’ (ফাতাওয়ে শামি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নবী-রাসুলদের সুন্নত চারটি। যথা—এক. লজ্জা করা (আরেক বর্ণনায় খতনা করা, দুই. সুগন্ধি ব্যবহার করা, তিন. মিসওয়াক করা, চার. বিয়ে করা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মিসওয়াক হলো মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৩৫০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যদি আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে অবশ্যই প্রত্যেক নামাজের আগে মিসওয়াক করার আদেশ করতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৭)

মিসওয়াক করার সময়

যে কোনো সময় মিসওয়াক করা যায়। তবে মিসওয়াক করার নয়টি সময় আছে। যথা—১. নামাজের সময়, ২. কোরআন তেলাওয়াতের সময়, ৩. অজু করার সময়, ৪. ঘুম থেকে জাগ্রত হলে, ৫. মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হলে, ৬. ঘুমানো আাগে, ৭. দীর্ঘ সময় কথা বলার পর, ৮. পানাহারের সময় ও ৯. দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।

যে জিনিস দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম

তিক্ত, কাঁচা ও নরম গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) জয়তুন ও খেজুরগাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করতেন।

মিসওয়াক করার পদ্ধতি

মিসওয়াক হাতের আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ লম্বা হওয়া উচিত। মিসওয়াক কাঁচা ডালের এবং নরম হওয়া ভালো। মিসওয়াক করার সুন্নত পদ্ধতি হলো, মুখের ডান দিক থেকে শুরু করা এবং ওপর থেকে নিচে মিসওয়াক করা। আড়াআড়িভাবে না করা। মাড়ির ভেতর ও বাইরে জিহ্বার গোড়া পর্যন্ত মিসওয়াক করা। মিসওয়াক ধরার সময় ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি মিসওয়াকের নিচে থাকবে। মধ্যমা ও তর্জনী ওপর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে থাকবে।