তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখলে কি অমুসলিম হয়ে যায়

মানুষ সামাজিক প্রাণী। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে পরস্পর মিলেমিশে বসবাস করে। মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী ও সহকর্মী ঘিরে থাকে মানুষের বসবাস। কখনো এসব সম্পর্কে মনোমালিন্য হয়। কখনো রাগ-অভিমানে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। একজন আরেকজনকে এড়িয়ে চলে। কারও সঙ্গে কথা বলা বন্ধের বিষয়ে সমাজে নানা কথার প্রচলন আছে। কেউ বলে, তিন দিনের বেশি কথা বলা বন্ধ রাখলে ব্যক্তি আর মুসলিম থাকে না। প্রশ্ন হলো, আসলে কি তাই?
কারও সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখলে অমুসলিম হয়ে যায়—এমন কোনো বিধান ইসলামে নেই। সমাজে প্রচলিত কথাটি সঠিক নয়।
ইসলাম সমর্থিত কারণ ছাড়া কোনো মুসলিমের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা কবিরা গুনাহ ও হারাম। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ নেই, সে তার অন্য কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। কেউ তা করলে মৃত্যুর পর জাহান্নামে যাবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১৪)
কারও সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো তাকে হত্যা করার মতো। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে তাকে হত্যা করা।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১৫)
তিন দিনের বেশি কথা বলা বন্ধ রাখা গুনাহ। মুমিন-মুসলমানের উচিত, এর মধ্যে সাক্ষাৎ হলেই আগে সালাম দেওয়া। সালাম দেওয়া ব্যক্তি উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ নয়, সে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তা এমন যে, তাদের পরস্পরের সাক্ষাৎ হলো; অথচ তারা একে অপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে প্রথম সালাম বিনিময় করে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯১১)
মানুষ হিসেবে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত রাগ-ক্ষোভ থাকতেই পারে। তার সঙ্গে দুয়েকদিন কথা বলা বন্ধ রাখা যেতে পারে। তবে সেটা কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি হওয়া যাবে না।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘কারও সঙ্গে তিন দিনের বেশি কথা না বললে মুসলমান থাকে না, এ কথা সত্য নয়। কোনো মুসলিম ভাইবোনের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ রাখা, তাকে অবরোধ করা তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য জায়েজ নেই। তিন দিন পর্যন্ত রাগ করে থাকা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলাম মানুষের স্বকীয় রাগ, গোষ্মা, দুঃখকে প্রশ্রয় দিয়েছে। ইসলাম বলেনি, কোনো রাগ চলবে না। তিন দিন পর্যন্ত রাগ মিটানোর সুযোগ আছে। তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও কথা না বলার সুযোগ ইসলামে নেই। তিন দিনের পরও কথা বলা হারাম। গুনাহের কাজ। কিন্তু মুসলমান থাকবে না, বিষয়টি এমন নয়। এটা বড় ধরনের অন্যায়।’