logo

অন্তঃসত্ত্বা নারীর কি রোজা রাখতে হবে

অন্তঃসত্ত্বা নারীর কি রোজা রাখতে হবে

সাধারণ অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্যও রোজা রাখা ফরজ। তবে যদি অন্তঃসত্ত্বা নারী নিজের কিংবা গর্ভস্থিত সন্তানের ক্ষতির শঙ্কা করেন, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখা জায়েজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রোজা নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের যারা পীড়িত বা ভ্রমণে থাকবে, তারা অন্য সময়ে এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। আর যাদের রোজা পালনের সক্ষমতা নেই, তারা এর পরিবর্তে ফিদিয়া দেবে (প্রতি রোজার জন্য) একজন মিসকিনকে (এক দিনের নিজের) খাবার দেবে...।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)

অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য রোজা রাখা যদি কষ্টকর হয়, কিন্তু কোনো ক্ষতি না হয়, তাহলে তার জন্য রোজা না রাখা জায়েজ। যদি রোজা রাখলে তার নিজের কিংবা গর্ভস্থিত সন্তানের ক্ষতি হয়, তাহলে রোজা না রাখা ওয়াজিব। কষ্ট না হলে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে।

শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন,অন্তঃসত্ত্বা নারী যদি কর্মঠ ও শক্তিশালী হয়, রোজা রাখলে যদি তার কষ্ট না হয় এবং তার গর্ভস্থিত সন্তানের ওপর প্রভাব না পড়ে, তাহলে এ নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ। কেননা রোজা না রাখার ক্ষেত্রে তার কোনো ওজর বা প্রয়োজন নেই।

গর্ভের অসুবিধা কিংবা শারীরিক দুর্বলতার কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রোজা রাখার প্রয়োজন নেই। গর্ভস্থিত সন্তানের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা থাকলে তার ওপর রোজা না রাখা ফরজও হতে পারে। (ফাতাওয়াস শায়খ ইবনে উসাইমিন, খণ্ড: , পৃষ্ঠা: ৪৮৭)

শাইখ বিন বাজ (রহ.) বলেন, অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী নারীর অবস্থা রোগীর মতো। কষ্টকর হলে তাদের জন্য রোজা না রাখার বিধান আছে। পরবর্তীতে সক্ষম হলে কাজা রোজা আদায় করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূর্ণ করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের ওপর থেকে রোজা ও অর্ধেক নামাজ মওকুফ (স্থগিত) করেছেন এবং অন্তঃসত্ত্বা নারী ও স্তন্যদায়ী নারীর ওপর থেকে রোজা মওকুফ করেছেন। (তুহফাতুল ইখওয়ান বি আজওয়িবাহ মুহিম্মাহ তাতাআল্লাকু বি আরকানিল ইসলাম, পৃষ্ঠা: ১৭১)