logo

জিনরাও কি মানুষের মতো আল্লাহর ইবাদত করে

জিনরাও কি মানুষের মতো আল্লাহর ইবাদত করে
জিন মসজিদ, মক্কা, সৌদি আরব। ছবি: উইকিপিডিয়া

জিন আরবি শব্দ, অর্থ আচ্ছন্ন বা মোহাবিষ্ট করা। এর আরেক অর্থ আবরণ। আল্লাহ মানুষ ও জিনদের তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ও জিনদের মধ্যে ভালো-মন্দ উভয়ই আছে। তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ কিতাব ও নবীদের পাঠিয়েছেন। মানবজাতির মতো কেয়ামতের মধ্য দিয়ে জিনেরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ হবে শুধু এই দুই জাতির, তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে ভালো ও মন্দ কর্মের প্রতিদান। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ ও জিনদের একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

হাশরের ময়দানে মানুষের মতো জিনদেরও হিসাবনিকাশ হবে, প্রতিদান স্বরূপ দেওয়া হবে জান্নাত ও জাহান্নাম। আল্লাহ উভয় জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রাসুলগণ আগমন করেননি? যারা তোমাদের কাছে আমার বিধানাবলি শোনাতেন এবং তোমাদের আজকের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করতেন।’ তারা বলবে, নিজেদের বিরুদ্ধে আমরা সাক্ষ্য দিলাম (হ্যাঁ এসেছিল)। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। আর তারা যে কাফের ছিল, সে বিষয়েও তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৩০)

এই জাতির হেদায়াতের জন্য আল্লাহ অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। যারাই আল্লাহর নিদর্শন ও তাঁর রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছে, ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে আল্লাহর বিধান বা গুনাহের চাদরে জড়িয়ে রেখেছে নিজেকে, এমন জিন-মানুষ দিয়ে আল্লাহ জাহান্নাম পূর্ণ করবেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জাহান্নামকে (পাপী) মানুষ ও জিন দিয়ে ভরে ফেলব।’ (সুরা সেজদা, আয়াত: ১৩)

ইসলামে মানুষ ও জিনদের ইবাদতের পদ্ধতি একই। শুধু তাই নয়, জিনদের মধ্যেও রয়েছে মানুষের মতো ধর্ম বিভাজন। এ সম্পর্কে জিনদের উক্তি আল্লাহ সুরা জিনে উল্লেখ করেছেন, ‘আর নিশ্চয় আমাদের (জিনদের) কতক সৎকর্মশীল এবং কতক এর ব্যতিক্রম। মূলত আমরা ছিলাম (মুসলিম ও কাফের) বিভিন্ন দলে বিভক্ত।’ (সুরা জিন, আয়াত: ১১)

জিনেরা অদৃশ্য হওয়ায় তাদের আমল মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় না। হাদিস, সাহাবি ও তারিয়িদের থেকে এমন কিছু ঘটনার বর্ণনা উঠে এসেছে, যার মাধ্যমে জিনদের ইবাদত করার কথা পাওয়া যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করো, তেলাওয়াত উচ্চস্বরে করবে। কারণ এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে বা সেই ঘরে বসবাস করে এমন জিন তার সঙ্গে নামাজ আদায় করে ও মনোযোগ সহকারে কোরআনের তেলাওয়াত শুনে।’ (মুসনাদুল বাজজার, হাদিস: ২৬৫৫)

হজ ও ওমরাহর মতো শারীরিক ইবাদতেও জিনদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আবু নুআইম তার বই দালাইলুন নুবুওয়াহতে বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে রাবা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে আমর একবার মসজিদুল হারামে ছিলেন। হঠাৎ একটি সাপ এসে বাইতুল্লায় সাতটি তাওয়াফ করল এবং মাকামে ইবরাহিমে গিয়ে নামাজ আদায় করল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে জিন, তোমার ইবাদত তো শেষ হয়েছে। মূর্খ লোকদের ভয়ে এখানে তোমার অবস্থান আমি নিরাপদ মনে করি না। এটা শুনে সাপটি কুণ্ডলি পাকিয়ে বসল, তারপর আকাশে উড়ে গেল।’ (দালাইলুন নুবুওয়াহ, আবু নুআইম: ৫১৫)

মুমিন জিনরা নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত করলেও কাফের ও দুষ্ট জিনরা সবসময় মানুষ ও জিনের ইবাদত ভণ্ডুল করতে সক্রিয় থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪২৩)