শিশুসন্তানেরও কি ফিতরা দিতে হবে

সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্তি সম্পদের মালিককে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করতে হবে। এ সম্পদ তার কাছে ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে থাকলেই ফিতরা দিতে হবে। জাকাতের সম্পদের মতো এক বছর অতিবাহিত হওয়া আবশ্যক নয়। যার ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে আদায় করবেন, আদায় করবেন নিজের অধীনস্থদের পক্ষ থেকেও। শিশুসন্তানের পক্ষ থেকে পিতাকে ফিতরা আদায় করতে হবে।
ঈদের দিন সূর্যোদয়ের আগে যে শিশুর জন্ম হয়েছে, তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে। তবে সেদিন সূর্যোদয়ের পর জন্ম নেওয়া সন্তানের ফিতরা দিতে হবে না। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯২)
ইসলামি স্কলাররা বলেন, শিশুসন্তানের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করতে হবে। পরিবারের দুগ্ধপোষ্য শিশুরও ফিতরা দিতে হবে। যদিও সে রোজা পালন করছে না, কিন্তু পরিবারের কর্তাকে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ ফিতরা আদায় করা হয়, শিশুর পক্ষ থেকেও সে পরিমাণ আদায় করতে হবে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো—খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা (৩ কেজি ২৭০ গ্রাম) খাদ্য দিয়ে সদকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৮২)। অন্য হাদিসে অর্ধ সা (১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম) গমের কথা বর্ণিত হয়েছে।
উল্লিখিত খাবারগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটি দিয়ে বর্ণিত পরিমাণ অনুযায়ী দান করলে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। সর্বোচ্চ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮০৫ টাকা।