logo

জুমাতুল বিদা কী, এর বিশেষ ফজিলত আছে?

জুমাতুল বিদা কী, এর বিশেষ ফজিলত আছে?

আমাদের দেশে ‘জুমাতুল বিদা’ বলে রমজানের বিদায়ী জুমা বা শেষ জুমা বোঝানো হয়। অনেকে মনে করেন, ইসলামে এ দিনের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এমন কি এ দিনের বিশেষ আমল ও নামাজের কথা বলেন কেউ কেউ। ফলে তারা এ জুমা আদায়ের জন্য পারতপক্ষে এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে যান। ইসলামি শরিয়তে জুমাতুল বিদা বলে আলাদা ফজিলতের কিছু নেই। কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি নব আবিষ্কৃত পরিভাষা। এটি রমজানের অন্যান্য জুমার মতোই ফজিলত রাখে, এর বাড়তি কোনো ফজিলত নেই। 

রমজান মাসের রোজা ইসলামের একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। এমনিতেই রমজান মাসের সব দিনেই বরকত রয়েছে, কিন্তু রমজান মাসের জুমার দিনের মর্যাদা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি। এ দিনে রমজানের পাশাপাশি জুমার বিশেষ সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বও একত্রিত হয়। যেহেতু রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা রয়েছে, তাই রমজানের শেষ দশকের জুমার সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের অপরাপর জুমার তুলনায় অনেকগুণ বেশি। 

জুমার দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ দিন। সপ্তাহের সেরা দিন। পাশাপাশি রমজানের জুমার দিন হিসেবে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। জুমার নামাজ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, শুক্রবার যখন জুমার নামাজের জন্য তোমাদের আহ্বান জানানো হয়, অর্থাৎ আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা প্রস্তুত হও। ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও, এটা তোমাদের প্রভূত কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনবে। যদি তোমরা তা বুঝতে পারতে।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)  

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘মনে রেখো, শুক্রবার সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং জুমার নামাজ আদায়ে রয়েছে অশেষ কল্যাণ ও সাওয়াব।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস: ১৭২৮) 

দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম জুমার দিন। এ দিন মানুষের দোয়া কবুল করেন আল্লাহ। হাদিসে আছে, ‘সূর্যোদয়ের মাধ্যমে যে দিনগুলো হয়, তার মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলমান নামাজরত অবস্থায় দোয়া করলে অবশ্যই তার দোয়া কবুল করা হয়।’

জুমার নামাজ ছেড়ে দিলে গুনাহ হয়। অন্তরে মরিচা ধরে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে বা যারা অকারণে অবহেলা করে তিন জুমা কাজা করল, সে যেন ইসলামকে অবজ্ঞা করল। তার অন্তরে মরিচা পড়ে গেল।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৩৪) 

জুমার দিন আগে আগে মসজিদে আসলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। যে সবার আগে মসজিদে আসে, সে উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার দিনে প্রথম মসজিদে প্রবেশ করে, ফেরেশতারা তার নামে একটি উট কোরবানির সওয়াব লিখে থাকেন। এরপর যে প্রবেশ করে ফেরেশতারা তার নামে একটি গরু কোরবানির সওয়াব লিখেন। এরপর যে প্রবেশ করেন, তার নামে একটি মুরগির ডিম সদকার সওয়াব লিখেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না ইমাম খুতবা পাঠের জন্য দণ্ডায়মান হন। ইমাম খুতবা পাঠ শুরু করলে ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯)