রোজাদারকে জোর করে খাওয়ানো হলে কি রোজা ভাঙবে

রোজাদারকে জোর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে খাবার খাওয়ানো হলে তার রোজা ভাঙবে না। সে রোজা চলমান রাখবে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছু খাবে না। (আল-মাজমু, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩২৬)
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ইমান আনার পর আল্লাহকে অবিশ্বাস করলে এবং কুফরির জন্য তার হৃদয় খুলে দিলে তার ওপর আল্লাহর গজব পড়বে। তার জন্য আছে মহা শাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে (কুফরির জন্য) বাধ্য করা হয় অথচ তার অন্তর ইমানের ওপর অবিচল থাকে। ’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১০৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং বাধ্য হয়ে করার বিষয়টি ক্ষমা করেছেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৪৩)। উল্লিখিত কোরআনের আয়াত ও হাদিস দিয়ে বোঝা যায়, কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বা বাধ্য করার বিষয়টি আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। এর জন্য আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন না।
অতএব রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাইয়ে দিলে রোজা ভাঙবে না। সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখতে হবে। (বাইহাকি, হাদিস: ৮৫১২, ফাতহুল বারি, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা: ২০৭)
যেসব কারণে রোজা ভাঙে না, এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—
- অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
- বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
- চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
- ইনজেকশন নেওয়া।
- ভুলক্রমে পানাহার করা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।
- নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।
- শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
- ঠান্ডার জন্য গোসল করা।
- দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
- মিসওয়াক করা।
- স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে বীর্যপাত হলে।
- দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত বা যে কোনো খাবার খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে না, যদি তা ছোলার দানার চেয়ে কম পরিমাণ হয়। যদি কম হওয়ার পরও মুখ থেকে বের করে পুনরায় গিলে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।