রমজানের কাজা রোজা আদায়ের সুযোগ শাবানে

শারীরিক অসুস্থতা, সফর, নারীদের ঋতুস্রাব কিংবা কোনো অপরাগতার কারণে অনেক সময় রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায়। কাজা রোজা রমজানের পর আদায় করে নিতে হবে। কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া দেরি না করাই ভালো। কোরআনে আছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে রমজান মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে। যে অসুস্থ কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না। যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
দুই রমজানের মাঝে ১১ মাস সময় থাকে, এর মধ্যে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া ওয়াজিব। শরিয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া পরের রমজান পার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাদের স্থায়ী কোনো সমস্যা নেই, তাদের জন্য শাবান মাস হতে পারে কাজা রোজা আদায়ের শেষ ও বড় সুযোগ। শাবানের পরই রমজান মাস, তখন রমজানের একটা আবহ মনের মধ্যে থাকে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের যে রোজা কাজা হয়ে যেত, তা পরবর্তী শাবান ছাড়া আদায় করতে পারতাম না। ইয়াহইয়া (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.)-এর ব্যস্ততার কারণে কিংবা নবী (সা.)-এর সঙ্গে ব্যস্ততার কারণে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৫০)
অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারা ব্যক্তি যদি পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত অসুস্থ থাকে, তবে সে বর্তমান রমজানের রোজা রাখবে। গত বছরের কাজা রোজা তার জিম্মায় থাকবে। এগুলো সুস্থ হওয়ার পর আদায় করবে। এ ক্ষেত্রে গোনাহ হবে না। কোরআনে আছে, ‘আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)
রমজান মাসের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সিলসিলাতুস সহিহাহ, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১০৩)