ড্রেসিং করা হাঁস-মুরগি খাওয়া কি জায়েজ

হাঁস-মুরগি জবাইয়ের পর সহজে লোম ছাড়ানো এবং পরিষ্কারের জন্য ড্রেসিং করা হয়। অনেকে জানতে চান, গরম পানিতে ড্রেসিং করা হাঁস-মুরগি খাওয়া যাবে কি না?
আমাদের দেশের দোকানগুলোতে হাঁস-মুরগি সাধারণত অল্প কিছুক্ষণ গরম পানিতে চুবানো হয়। এরপর চামড়া থেকে পালক ছাড়ানোর জন্য মেশিনে দেওয়া হয়। এভাবে ড্রেসিং করার কারণে হাঁস-মুরগি খাওয়া হারাম বা মাকরুহ হয় না। কারণ এ পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি গরম পানিতে যতটুকু সময় চুবিয়ে রাখা হয়, ততটুকু সময়ে হাঁস-মুরগির পালকসমূহের গোড়া কিছুটা নরম হয়, মুরগির ভেতরের নাপাকির প্রভাব গোশতে পৌঁছায় না।
ইসলাম বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেসিং করার কারণে সাধারণত মুরগি খাওয়া হারাম বা মাকরুহ হয় না। ড্রেসিং করার আগে মুরগির নাড়িভুড়ি বের করে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ, তাহলে গোশতে নাপাকি পৌঁছার শঙ্কা থাকে না। তবে বেশি সময় তপ্ত গরম পানিতে হাঁস-মুরগি চুবিয়ে রাখার ফলে নাপাকির প্রভাব ও গন্ধ গোশতের ভেতর চলে গেলে গোশত খাওয়া নাজায়েজ হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘দোকানগুলোতে সাধারণত যে পদ্ধতিতে মুরগি ড্রেসিং করা হয়, তাতে ওই মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ হয়ে যায় না। কারণ, এক্ষেত্রে মুরগি গরম পানিতে যতটুকু সময় চুবিয়ে রাখা হয় এতে মুরগির ভেতরের নাপাকির প্রভাব গোশতে পৌঁছে না। বরং এর দ্বারা শুধু লোমকূপগুলো ঢিলা ও নরম হয়ে যায়। অবশ্য যদি এত বেশি সময় তপ্ত গরম পানিতে মুরগি চুবিয়ে রাখা হয়, যার ফলে নাপাকির প্রভাব ও গন্ধ গোশতের ভেতর চলে যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে ওই মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ হয়ে যাবে। আর যেসব মুরগি সাধারণ নিয়মে ড্রেসিং করা হয় (অর্থাৎ অধিক সময় ফুটন্ত পানিতে চুবিয়ে রাখা হয় না) সেগুলোও রান্না করার আগে ভালোভাবে ধুয়ে পবিত্র করে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য, ড্রেসিংয়ের প্রচলিত পদ্ধতি কিছুটা সংশোধনযোগ্য। এতে আপত্তিকর বিষয় রয়েছে।’ (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৬; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
অনেক সময় দেখা যায়, বাজারে ড্রেসিংয়ের জন্য মুরগিকে যে পানিতে ভেজানো হয়, তা সাধারণত প্রবাহিত রক্ত মিশ্রিত হওয়ার কারণে নাপাক থাকে। তাই বাড়িতে এনে ওই মুরগির চামড়া ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে রক্তমিশ্রিত গরম পানিতে যেহেতু সামান্য সময়ই মুরগি রাখা হয়, তাই ওই নাপাক পানির কারণে মুরগির গোশত হারাম হয়ে যায় না। তবে হাঁস-মুরগির লোম কষ্ট করে ড্রেসিং করা ছাড়াই পরিষ্কার করা সবচেয়ে উত্তম পন্থা।


