logo

বিয়েতে উকিল বাবা রাখা কি জায়েজ

বিয়েতে উকিল বাবা রাখা কি জায়েজ
বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। ছবি: দ্য স্টার

বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় গায়রে মাহরামকে (যার সঙ্গে নারীর দেখা করা জায়েজ নেই) বিয়েতে উকিল বাবা বানানোর প্রচলন আছে। উকিল বাবার মাধ্যমে বিয়েতে মেয়ের থেকে প্রস্তাব আনা হয়। বিয়ে পরবর্তী সময়ে উকিল বাবার সঙ্গে ওই নারী দেখা করেন। নারীর স্বামীও উকিল মায়ের সঙ্গে পর্দার বিধান না মেনে দেখা করেন। প্রশ্ন হলো, বিয়েতে উকিল বাবা রাখা কি জায়েজ।

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে। বিয়ে করে মানুষ যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার মৌলিক শর্ত দুটি। এক, প্রস্তাব ও গ্রহণ করা। দুই, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরষ বা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী থাকা। এ দুটি শর্ত পাওয়া গেলে বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যায়।

বিয়েতে উকিল হলো অভিভাবক, যিনি বিয়েতে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এই প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন মেয়ের বাবা, ভাই, চাচা বা মামাদের কেউ। গায়রে মাহরাম কারও জন্য এই প্রস্তাব আনা জায়েজ নেই।

সমাজে এই উকিল বাবা তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে রক্তের সম্পর্কের মতো আচরণ করা হয়। অবলীলায় তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা হয়। উকিল বাবার সংস্কৃতি ইসলামসম্মত নয়। তারা গায়রে মাহরাম হলে তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বা অপ্রয়োজনে কথা বলা জায়েজ নয়।

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, উকিল বাবা বলতে ইসলামে ‍কিছু নেই। উকিল বাবা শরিয়তসম্মত নয়। এগুলো সামাজিক কুপ্রথা। এসব পরিত্যাগ করা উচিত। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। বাবার অনুপস্থিতিতে দাদা, ভাই বা নিকটাত্মীয় কেউ উকিল হবে। অন্য কেউ হতে পারবে না।

মুসলিম বাংলার ওয়েবসাইটে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘বিয়ের আকদ মজলিসে কনের পক্ষে তার নিকটাত্মীয় কোনো মাহরাম পুরুষ যেমন- পিতা, বড় ভাই, চাচা, মামা (যাদের সঙ্গে আজীবন বিয়ে নিষিদ্ধ) বিয়ের ওকালতি (প্রতিনিধিত্ব) করেন। যিনি তার পক্ষ থেকে ইজাব অথবা কবুল করেন। তিনিই শরিয়তের দৃষ্টিতে ওকিল বা অভিভাবক। এই অভিভাকত্ব বিয়ের আকদ অনুষ্ঠানেই শেষ। এরপর এর কোনো কার্যকারিতা নেই।

সমাজে প্রচলিত উকিল বাবা বানানো- যার সঙ্গে কনের মাহরামের সম্পর্ক থাকে না এমন ব্যক্তিদের উকিল বাবা বানানো এবং আজীবন এদেরকে নিজের বাবার মতোই মনে করে দেখা সাক্ষাৎ করা সম্পূর্ণ শরিয়ত বিরোধী এবং হারাম। ইসলামে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। (তাফসিরে মাজহারি, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৪৯০; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩২৭)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ার‌ম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘উকিল বাবা হলো দুই নম্বর বাবা। নকল বাবা। নকল বাবা হওয়াও জায়েজ নয়, বানানোও জায়েজ নেই। দেখা যায়, যার সঙ্গে দেখা করা জায়েজ নেই, এমন একজনকে উকিল বাবা বানানা হয়। তার মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব নেওয়া হয়, এটা সম্পূর্ণ হারাম। বিয়ে উপলক্ষে কোনো উকিল বাবার প্রয়োজন নেই। আসল বাবাই মেয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে।’

উকিল বাবা বানানো একটি সামাজিক কুসংস্কার জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।