logo

বান্দার যে কাজে আল্লাহ বেশি খুশি হন

বান্দার যে কাজে আল্লাহ বেশি খুশি হন
তওবা ও ইসতেগফার মুমিনের জীবনের অপরিহার্য বিষয়। ছবি: ইসলাম অনলাইন

মানুষ মাত্রই ভুল করে। জেনে না-জেনে গুনাহ করে। আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়। মন্দ কাজে জড়িয়ে পড়ে। গুনাহের কারণে হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে তওবা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৮)

নিজের পাপ ও অক্ষমতার কথা স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। তওবা করলে আল্লাহ খুশি হন। বান্দা নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করবে, এটা আল্লাহ পছন্দ করেন।

তওবা ও ইসতেগফার মুমিনের জীবনের এক অপরিহার্য বিষয়। গুনাহমুক্ত জীবন লাভ করতে যা একান্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুত্তাকিদের গুণাবলি বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এবং তারা সেসব লোক, যারা কখনও কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনোভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কেইবা আছে, যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে। আর তারা জেনেশুনে তাদের কৃতকর্মে অবিচল থাকে না।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫)

বান্দার নানা আমলে আল্লাহ খুশি হন। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি খুন হন বান্দা যখন তওবা করে। অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বলেন, আমার প্রতি বান্দার বিশ্বাসের অনুরূপই (আমার প্রতি বান্দার ধারণা মোতাবিক আমি তার সঙ্গে আচরণ করি)। সে যখন যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সঙ্গে আছি। মরু বিয়াবানে তোমাদের কেউ হারানো (বাহন) পশু পাওয়ার পর যে পরিমাণ খুশি হয়, আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবার পর এর থেকেও অধিক খুশি হন। যদি কেউ এক বিঘত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে, তবে আমি তার প্রতি এক হাত এগিয়ে যাই। যদি কেউ এক হাত পরিমাণ আমার দিকে এগিয়ে আসে, তবে আমি এক দুই বাহু ডানে বামে প্রসারিত করলে যে দূরত্বের পরিমাণ তার দিকে এগিয়ে যাই। যদি কেউ আমার দিকে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে ছুটে যাই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭০০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি হারানো পশু পাওয়ার কারণে যে পরিমাণ খুশি হয়, তোমাদের কারোর তওবার কারণে আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও অধিক খুশি হন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭০১)