বজ্রাঘাতে মৃত্যু, কী বলে ইসলাম

প্রত্যেক প্রাণীকে মরতে হবে। প্রাণওয়ালা যত সৃষ্টিজীব আছে সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যুর কবল থেকে জগতের কোনো তাবৎ পরাশক্তি, কোনো প্রযুক্তি কাউকে বাঁচাতে পারবে না। মৃত্যুর কাছে সবাই অক্ষম। মৃত্যুর নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ডও বেশি বেঁচে থাকার ক্ষমতা কারও নেই। মৃত্যুর অনিবার্য স্বাদ প্রত্যেক প্রাণীকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৮৫)
মৃত্যু কোনো সংবাদপত্র নয়। ডাকপিয়নও নয়। সে সংবাদ না দিয়ে না জানিয়ে চলে আসে। মুমিনের উচিত, মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তত থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে। যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় এসে পড়ে, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩৪)
আরেক আয়াতে আছে, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে মিলিতি হওয়ার আশা রাখে, তাদের নিশ্চিত থাকা উচিত, আল্লাহর নির্ধারিত কাল অবশ্যই আসবে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৫)
সবাই স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করে। কিন্তু সবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় না। কেউ অসুখে, কেউ দুর্ঘটনায়, আবার কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যায়। বজ্রাঘাতে মৃত্যু তেমনই এক ঘটনা।
ইসলামি শরিয়তে বিশেষ ধরনের কিছু মৃত্যুকে শহীদ মৃত্যুর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কিছু ব্যক্তি আখেরাতে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে, যদিও তারা দুনিয়াতে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়নি।’
ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে যারা নিহত হন, তারা শহীদ। তাদের ছাড়া আরও সাত ধরনের শহীদ আছে। যথা—মহামারি, পানিতে ডুবে, ফুসফুসের রোগে, পেটের পীড়ায়, আগুনে পুড়ে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ও সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণকারী নারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে ও ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃতরা শহীদ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২০)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, বজ্রাঘাতে মৃত ব্যক্তিকে শহীদ বলা সমীচীন হবে না। তবে বজ্রাঘাতের কারণে যদি পুড়ে মারা যায়, তাহলে শহীদের মর্যাদা পাবে। কারণ, ইসলামে আগুনে পুড়ে মৃতরা শহীদ।
কেউ কেউ মনে করেন, ‘বজ্রাঘাতে মৃত্যুবরণকারীরা আল্লাহর গজবপ্রাপ্ত। তাদের ওপর আছে আল্লাহর অভিশাপ।’ তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এটি কুসংস্কার। ইসলামের বিশ্বাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
বরং এটি ব্যক্তির হঠাৎ মৃত্যু। ইসলামে মুমিন ব্যক্তির হঠাৎ মৃত্যুকে প্রশান্তিদায়ক বলা হয়েছে। কারণ, হঠাৎ মৃত্যুর মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান। দুনিয়ার কষ্ট থেকে তিনি মুক্তি পান। তবে গুনাহগারের জন্য হঠাৎ মৃত্যুও যন্ত্রণাদায়ক। কারণ, দুনিয়াতে সে যেটুকু শান্তি ভোগ করছিল, আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেল।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বজ্রাঘাতে মৃত্যুকে আল্লাহর গজবের মৃত্যু বা অভিশপ্ত মানুষের মৃত্যু মনে করা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়। এটা বাজে মন্তব্য। এর থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। কোরআন এবং সুন্নাহে এ ধরনের মৃত্যুকে গজবের মৃত্যু বলা হয়নি। বজ্রাঘাতে মৃত ব্যক্তি ইমানদার হয়ে থাকলে এটি তার জন্য কল্যাণকর। নাফরমান হলে তার জন্য অকল্যাণকর। বজ্রাঘাতে মৃতকে খারাপ মৃত্যু মনে করা কুসংস্কার।’