স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়ানোর দোয়া

আল্লাহ তাআলা কর্তৃক র্নিধারিত নারী ও পুরুষের মধ্যকার পবিত্র ও হালাল সম্পর্ক বিয়ে। বিয়ের মাধ্যমে চিরস্থায়ী ভালোবাসা ও আজীবন সাহচর্যের এক অদম্য অঙ্গীকার করেন স্বামী-স্ত্রী। দাম্পত্যজীবন স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর নেয়ামত। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক। আদিতে আল্লাহ হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন। তাঁর একাকিত্ব দূর করার জন্য সৃজন করলেন মা হাওয়া (আ.)-কে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মানবকুল, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এরপর সেই দুজন থেকে বহু নারী-পুরুষ ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা পরস্পর পরস্পরের কাছে (অধিকার) চেয়ে থাক এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি-বন্ধন সম্পর্কে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১)
দাম্পত্য সম্পর্ক আল্লাহর সেরা দান ও তাঁর কুদরতের প্রকাশ। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দেন। কোরআনে আছে, ‘তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হলো এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)
দাম্পত্যজীবন যতই মজবুত হোক না কেন, সেখানে উত্থান-পতন থাকে। মান-অভিমান বয়ে চলে। তবে এ সময় ভেঙে পড়া যাবে না। ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। দোয়ার মাধ্যমে জীবনে শান্তি ফিরে আসে। ভালোবাসা গভীর হয়।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা বাড়ানোর দোয়াটি কোরআন থেকে নেওয়া হয়েছে। দোয়াটি হলো—
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাবলানা মিন আজ ওয়াজিনা, ওয়া জুররিই য়াতিনা কুররাতা আ-ইউনিন, ওয়াজ আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দাও।
এ দোয়ায় এমন একটি পরিবারের জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা ভালোবাসা, করুণা এবং হেদায়াতে পরিপূর্ণ। এখানে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করা হচ্ছে।
দোয়াটি কারা পড়বেন
দোয়াটি স্বামী-স্ত্রী উভয়েই পাঠ করতে পারেন। দোয়াটি স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে, ভালোবাসা পুনরুজ্জীবিত করতে এবং একে অপরের সঙ্গে বন্ধনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।
দোয়াটি কতবার পাঠ করা উচিত
দোয়াটি যে কোনো সময় পড়া যায়। যতবার ইচ্ছা, ততবার পড়া যায়। তবে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর, বিশেষ করে ফজর ও ইশার নামাজের পর দোয়াটি পাঠ করা যেতে পারে। ঘুমানোর আগে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে পড়া যেতে পারে। দোয়াটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে ভালো, কারণ তা মানসিক দূরত্ব কমাতে এবং বোঝাপড়া বাড়াতে সাহায্য করে।



