পেটে মশা-মাছি ও ধোঁয়া ঢুকে গেলে রোজা ভাঙবে?

অসতর্কতাবশত কখনো মুখের ভেতর মশা-মাছি ঢুকে যায়। ধুলাবালু বা ধোঁয়াও নানা কারণে পেটের ভেতর চলে যায়। অনেকে জানতে চেয়েছেন, পেটের ভেতর মশা-মাছি, ধুলাবালু বা ধোঁয়ার কারণে রোজা ভাঙবে কি না?
আল্লাহ প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের মানুষের ওপর। যেন তোমরা আল্লাহভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের খাওয়া, পানাহার ও স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা হলো রোজা। মৌলিক এ তিনটি কাজ কারও দ্বারা সংঘটিত হলে রোজা ভেঙে যাবে। সুতরাং অনিচ্ছাবশত পেটের ভেতর মশা-মাছি, ধোঁয়া ও ধুলাবালু চলে গেলে রোজা ভাঙবে না। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এক লোকের কণ্ঠনালিতে মাছি ঢুকে গেলে তাকে বললেন, এতে তোমার রোজা ভাঙেনি।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৯৮৮৬)
ইসলামি স্কলাররা বলেন, ‘এসব পোকামাকড় পেটের ভেতরে চলে গেলেও রোজা ভাঙবে না। কেননা এগুলো মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে না। যদিও মুখে তার স্বাদ অনুভব হয়।’ (কিতাবুল আসল, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬৯; ফাতাওয়া কাজিখান, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৯৮)
তবে ইচ্ছাকৃতভাবে নাক-মুখ দিয়ে ধোঁয়া প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। (হেদায়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১০৮)। রোজা রেখে ধূমপান করলেও রোজা ভেঙে যাবে। স্বেচ্ছায় ধূমপান করার কারণে কাজা-কাফফারা দিতে হবে। (আদ দুররুল মুখতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৯৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৬৮১)