logo

ইসলামে যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা নিষেধ

ইসলামে যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা নিষেধ
ইসলামে যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা নিষেধ। ছবি: পিন্টারেস্ট

মানব জীবনে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো জৈবিক চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। এই চাহিদা পূরণের জন্য ইসলাম বিয়ের বিধান দিয়েছে। বিয়ে সৃষ্টিজগতের চিরায়ত ধারা। এটি শুধু মানবজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র সৃষ্টিতে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রতিটি বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৪৯)

বিয়েবন্ধন জীবনের পূর্ণতা এনে দেয়। এটি মানবসৃষ্ট কোনো চুক্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এক পবিত্র বিধান। ইসলাম শুধু একজন ভালো ব্যক্তি সৃষ্টি করতে চায় না, বরং সেই ব্যক্তিকে নিয়ে একটি সুস্থ ও আদর্শ পরিবার নির্মাণ করতে চায়। আর এই পরিবার গঠনের ভিত্তি হলো বিয়ে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তিনি (আল্লাহ) তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার স্ত্রীকে বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারে।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৮৯)

বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

বিয়ে করা নবী-রাসুলদের সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

কাদের বিয়ে করা যাবে, কাদের বিয়ে করা যাবে না- এর একটি মৌলিক নীতি দিয়েছে ইসলাম। যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম, তাদের তালিকা এখানে দেওয়া হলো-

১. মা- তেমনিভাবে দাদি, নানি ও তাদের ওপরের সবাই।

২. বাবার স্ত্রী- বাবা মারা গেলে বা তালাক দিলেও (বাবার স্ত্রী বা সৎমা) বিয়ে করা যাবে না। এটি সন্তানের জন্য বৈধ নয়। জাহেলি যুগে এই ধরনের বিয়ে প্রচলিত ছিল, কিন্তু ইসলামে এই বিয়ে হারাম।

৩. মেয়ে- নিজের মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত কন্যাসন্তান।

৪. বোন- সহোদর, বৈমাত্রেয় (সৎমায়ের মেয়ে) ও বৈপিত্রেয় (সৎবাবার মেয়ে) বোন।

৫. ফুফু- বাবার সহোদর বোন এবং বাবার বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৬. যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর ঔরশজাত কন্যাসন্তান, স্ত্রীর আপন মা, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি।

৭. খালা- মায়ের সহোদর বোন এবং মায়ের বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

৮. ভাতিজি- সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।

৯. ভাগ্নি- সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কন্যাসন্তান।

১০. দুধ মেয়ে- (স্ত্রীর দুধ পান করেছে এমন), সেই মেয়ের মেয়ে, দুধছেলের মেয়ে ও তাদের পরের প্রজন্মের কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধছেলের স্ত্রী।

১১. দুধ মা এবং তার দিকের খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা।

১২. দুধ বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোনো কন্যাসন্তান। অর্থাৎ দুধ সম্পর্ককে রক্তসম্পর্কের মতোই গণ্য করতে হবে।

১৩. ছেলের স্ত্রী।

১৪. এমন দুই নারীকে একসঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না, যাদের একজন পুরুষ হলে তাদের মধ্যে বিয়ে বৈধ হতো না। যেমন- স্ত্রীর বোন, খালা, ফুফু।

রায়হান রাশেদ

সম্পাদনা

রায়হান রাশেদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট