logo
Advertisement

যে ২ পাপের কারণে মানুষ সবেচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যে ২ পাপের কারণে মানুষ সবেচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে
ভীষণ বেদনায় একাকী বসে আছেন যুবক। ছবি: প্রতীকী

আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষ ও জিন সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। মানুষকে জীবন ও মরণ দিয়েছেন তাদের পরীক্ষা করার জন্য। বেঁচে থাকার জীবনে যে আল্লাহর নির্দেশ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ মতে চলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহর পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হবে। যে আল্লাহর নির্দেশ ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ মেনে চলবে না, সে নিশ্চিত জাহান্নামে যাবে। সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন—‘আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি (একদিকে যেমন) মহা শক্তিধর, (আবার অন্যদিকে) অতি ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক, আয়াত: ২)

Advertisement

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মুসলমান জান্নাতে যেতে চায়। চিরস্থায়ী জীবনে সুখে থাকতে চায়। কিন্তু তার এ শুভ আকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শয়তান। শয়তান সবসময় মানুষের সঙ্গে লেগে থাকে। সে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। কিন্তু যে শয়তানের ধোঁকা উপেক্ষা করে আল্লাহর পথে চলতে পারে, সে দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনে পায় সফলতা।

মৃত্যুর পরই মানুষের কাছে তার চিরস্থায়ী ঠিকানার কথা জানানো হয়। সে জান্নাতি হলে তার জন্য প্রশান্তির ব্যবস্থা করা হয়। জাহান্নামি হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।

মানুষ যেমন নানাবিধ সওয়াবের কাজ করার কারণে জান্নাতে যাবে, তেমনি বহু রকম পাপের কারণে জাহান্নামে যাবে। তবে দুটি পাপের কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বললেন, আল্লাহভীতি, সদাচার ও উত্তম চরিত্র। আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বললেন, মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার (সন্তুষ্টির) জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই রানের মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) হেফাজত করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৪)

কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, নিশ্চয়ই বান্দা পরিণাম চিন্তা করা ছাড়াই এমন কথা বলে, যে কথার কারণে সে ঢুকে যাবে জাহান্নামের এমন গভীরে, যার দূরত্ব পূর্ব (পশ্চিম)-এর দূরত্বের চেয়েও বেশি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৭)

লজ্জাস্থানের হেফাজত করা ইমানি দায়িত্ব। লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘(অবশ্যই সফল হয়েছে মুমিনগণ)...আর যারা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষিত রাখে।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৫)