রোজা অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে যা করবেন

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ তোমাকে ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। বলো, তা অপবিত্র। কাজেই ঋতুকালে স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাক এবং যে পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাদের নিকটবর্তী (দাম্পত্য মিলন) হয়ো না। যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের সঙ্গে সহবাস করো, যেভাবে আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
রোজা অবস্থায় নারীদের ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) ও প্রসবোত্তর স্রাব শুরু হলে রোজা রাখতে হবে না। তারা পরে এ রোজা কাজ আদায় করবে।
রোজা অবস্থায় ঋতুস্রাব শুরু হলে দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি নয়। পানাহার করতে পারবে। তবে প্রকাশ্যে পানাহার না করাই ভালো। পানাহার না করার এ বিরতি রোজা হিসেবে নয়, বরং তা রোজার সম্মানে করতে হবে। আতা (রহ.) বলেছেন, ‘কোনো নারীর রমজান মাসে দিনের শুরুতে মাসিক শুরু হলে সে পানাহার করতে পারবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা: ৯৪৩১; ফাতাওয়া খানিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১৮)
ঋতুস্রাবের সময় নামাজ ও রোজা রাখা নিষেধ। নামাজ পুরোপুরি মাফ হয়ে যায়। নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না। কিন্তু রোজা সাময়িকভাবে না রাখার বিধান থাকলেও পরে কাজা আদায় করতে হবে। আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতার পর নারীরা কি নামাজ ও রোজার কাজা আদায় করবে?’ তিনি বললেন, ‘রোজার কাজা আদায় করতে হবে। নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।’
ঋতুস্রাবের সময় নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন। স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করবেন। বাসায় ইফতার তৈরি, দোয়া-দরুদ, জিকির-আজকার করবেন। সাহরি-ইফতারেও অংশগ্রহণ করবেন।
রমজানে দিনের বেলায় কোনো নারীর ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে তিনি যদি পবিত্র হয়ে যান, তাহলে ওই দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা জরুরি। পরে এ রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, একজন নারীর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন। সর্বোচ্চ সময় দশ দিন। এ সময় নারী নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকবেন।