Advertisement

হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভাঙবে?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে গেলে অজু ভাঙবে?
অজু করছেন এক কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

নামাজের জন্য অজু করা ফরজ। অজু ছাড়া নামাজ হবে না। অজু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। নামাজের আগে অজু করা বাধ্যতামূলক। নামাজ ছাড়াও অনেক ইবাদতের জন্য অজু করতে হয়। যেমন—হজ ও কোরআন স্পর্শ করতে অজুর প্রয়োজন হয়।

অজুর ফরজ চারটি। যথা—সমস্ত মুখ ধোয়া, উভয় কান কনুইসহ ধোয়া, গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা ও মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ (পানি দিয়ে স্পর্শ) করা। এই চারটির কোনো একটা বাদ পড়লে অজু হবে না। পরিপূর্ণভাবে এই চার কাজ করলে অজু হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

অজু ভঙ্গের সাতটি কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো পাওয়া গেলে অজু ভেঙে যাবে। অজু ভঙ্গের সাতটি কারণের মধ্যে হাঁটুর ওপর কাপড় উঠে যাওয়ার বিষয়টি নেই। এ জন্য কোনো কারণে কারও হাঁটুর ওপর কাপড় উঠলে অজু ভাঙবে না।

ইসলামি শরিয়া মতে, একজন পুরুষের জন্য সবসময় নাভীর ওপর থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং একজন নারীর জন্য পুরো শরীর ঢেকে রাখা ফরজ। তাই এ বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ সাবহেডের অধীন এক শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘অজুর পর কোনোভাবে হাঁটু খুলে গেলে অজু ভেঙে যায়—এ ধারণা সঠিক নয়। হাঁটু সতরের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ঢেকে রাখা অপরিহার্য। পা ধোয়ার সময় সতর্কতার সঙ্গে ধোয়া উচিত যেন হাঁটু খুলে না যায়। কিন্তু এ কথা ঠিক নয় যে, হাঁটু খুলে গেলে অজু ভেঙে যায় কিংবা অজুর মাঝে এমনটি হলে নতুন করে অজু করা জরুরি।’

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘হাঁটুর ওপরে কাপড় উঠে গেলে অজু ভাঙে না। অজু ভঙ্গের সাত কারণ ছাড়া অন্য কোনো কারণে অজু নষ্ট হয় না। তবে হাঁটুর ওপর কাপড় উঠলে সতর নষ্ট হয়ে যায়। কারণ সতর ঢেকে রাখা ফরজ। সতর নষ্ট হলে গুনাহ হয়।’

অজু ভঙ্গের সাত কারণ হলো—

১. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

২. রক্ত, পূঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।

৩. মুখ ভরে বমি করা।

৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।

৫. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া।

৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হওয়া।

৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা।