প্রস্রাব বা বায়ুর চাপ রেখে নামাজ পড়া যাবে?

মানুষের প্রকৃতিগত বিষয় প্রস্রাব-পায়খানা। কেউ এর থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। ইসলামে আছে প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ম-কানুন। আছে সুন্নতি পদ্ধতিও। কারও এ প্রয়োজন দেখা দিলে স্বভাবগত এর থেকে মুক্ত হতে চায়। কেউ আবার বিলম্বও করেন। বিশেষত কেউ নামাজের সময় প্রস্রাব-পায়খানার চাপ পেলে অজু করার অলসতার কারণে চেপে রাখেন। এর চাপ নিয়েই নামাজে দাঁড়ান। তবে প্রস্রাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ বলেছেন ইসলাম বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, প্রস্রাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। এতে নামাজের স্থিরতা এবং একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়। প্রশান্তির সঙ্গে নামাজ আদায় হয় না। এসব চাপ থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্থিরতা এবং একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবিরা প্রস্রাব-পায়খানা ও বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আরকাম (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যখন নামাজ দাঁড়িয়ে যায় আর তোমাদের কারও প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজন দেখা দেয়, সে যেন প্রথমে প্রয়োজন সেরে নেয়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪২)
সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির জন্য হালাল নয় কারও গৃহাভ্যন্তরে অনুমতি ছাড়া দৃষ্টিপাত করা... এবং কেউ যেন প্রস্রাব-পায়খানার চাপ নিয়ে নামাজ না পড়ে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭)
নাফে (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক ব্যক্তি পেটে বায়ুর চাপ বোধ করে। তিনি বললেন, বায়ুর চাপ বোধ করা অবস্থায় সে যেন নামাজ না পড়ে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৮০২২)
এসব হাদিস ও সাহাবি ও মুসলিম মনীষীদের কথার ওপর ভিত্তি করে ফকিহরা বলেছেন, প্রস্রাব-পায়খানা এবং বায়ুর চাপ নিয়ে নামাজ শুরু করা মাকরুহে তাহরিমি। আর স্বাভাবিক অবস্থায় নামাজ শুরু করার পর নামাজের ভেতরে এমন চাপ সৃষ্টি হলে নামাজের পর্যাপ্ত সময় অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও এ অবস্থায় নামাজ চালিয়ে যাওয়া মাকরুহ। এ ধরনের ক্ষেত্রে নামাজ ছেড়ে পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে অজু করে নামাজ আদায় করা কর্তব্য।
তবে, নামাজের সময় যদি এত স্বল্প থাকে যে, প্রয়োজন সারতে গেলে নামাজ কাজা হয়ে যাবে, তাহলে সম্ভব হলে এ অবস্থায়ই নামাজ পড়ে নেবে।
অবশ্য পর্যাপ্ত সময় থাকার পরও কোনো ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী যদি এ অবস্থায় নামাজ পড়ে নেয়, তবে এমনটি করা মাকরুহ হলেও তাদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়া জরুরি নয়। তবে ভবিষ্যতে এমন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। (মাসিক আলকাউসার)।



