logo

নারীর প্রতি কোরআনের ৯ উপদেশ ও সাবাবাসীর গল্প 

নারীর প্রতি কোরআনের ৯ উপদেশ ও সাবাবাসীর গল্প 
সৌদি আরবের মক্কার মসজিদে হারামে তারাবি নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। সংগৃহীত ছবি

আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২২তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। সুরা আহজাবের ৩১ থেকে সুরা সাবা, সুরা ফাতির ও সুরা ইয়াসিনের ১ থেকে ২১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত । আজকের তারাবিতে পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে, নবীপত্মী ও অন্য নারীদের উপদেশ, মহানবী (সা.) শেষ নবী, নবীজির বহুবিবাহ, আল্লাহর প্রশংসা, রিজিক, দীনের ওপর অবিচল, ইমান ও কুফরের পার্থক্য, উম্মতে মুহাম্মদির প্রশংসা, সামাজিক শিষ্টাচার, নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ, আল্লাহর অনুগ্রহ, গুনাহের কঠোর শাস্তি ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। 

নারীর প্রতি কোরআনের উপদেশ
নবী পরিবার ও তাদের মাধ্যমে নারীদের কিছু উপদেশ দেওয়া হয়েছে সুরা আহজাবের ৩২ থেকে ৩৪ নম্বর আয়াতে। যেমন—

ক্ষমা ও বিশেষ পুরস্কার পায় যারা 
এ সুরার ৩৫ নম্বর আয়াতে ১০টি বিশেষ গুণের কথা বলা হয়েছে। এ গুণের অধিকারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বিশেষ পুরস্কার পায়। গুণগুলো হলো—ইসলাম, ইমান, আল্লাহর আনুগত্য, সততা ও সত্যবাদিতা, ধৈর্য, বিনয়, দান, রোজা, লজ্জাস্থানের হেফাজত ও বেশি বেশি আল্লাহর স্মরণকারী। 

মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ 
হজরত মুহাম্মদ (সা.) চির প্রশংসিত। আকাশে আল্লাহ আর দুনিয়াতে সব সৃষ্টি তাঁর প্রশংসা করে। তাঁর পবিত্র নামে দরুদ পড়ে। তাঁর নামে দরুদ পড়া ইমানের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার প্রতি একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪) 
সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত-দরুদ পেশ করেন। হে মুমিনরা, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ 

যা আছে সুরা সাবায়
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা সাবার আয়াত সংখ্যা ৫৪। এ সুরায় আখেরাত ও পুনরুত্থান, দাউদ ও সুলাইমান (আ.) এবং সাবাবাসীকে প্রদত্ত আল্লাহর নেয়ামত, নবীদের কৃতজ্ঞতা আর সাবা জাতির অকৃতজ্ঞতা, তাদের পরিণাম, মুশরিকদের কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাসের খণ্ডন, রিজিকের মালিক আল্লাহ ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। 

সাবাবাসীর অকৃজ্ঞতার গল্প 
ইয়েমেনের সানা থেকে কিছু দূরে অবস্থিত প্রাচীন নগরী মাআরিব। মাআরিবে ছিল সাবা জাতির বসবাস। আল্লাহর নেয়ামতে ভরপুর ছিল সে জনপদ। তাদের ছিল দুটি সুন্দর ও উত্তম বাগান—একটি ডান দিকে, আরেকটি বাঁ দিকে। নবীদের মাধ্যমে আল্লাহ তাদের কৃতজ্ঞতা আদায়ের আদেশ দিলেন। কিন্তু তারা নবীদের কথা শুনল না। তারা অবাধ্য হলো। ফলে বন্যা দিয়ে আল্লাহ তাদের সুন্দর বাগান ধ্বংস করে দিলেন। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই সাবাবাসীর জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন। দুটি উদ্যান, একটি ডান দিকে, অন্যটি বাঁ দিকে। বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের রবের দেওয়া রিজিক ভোগ করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এ শহর উত্তম এবং তোমাদের রব ক্ষমাশীল। এরপর তারা অবাধ্য হলো। ফলে তাদের ওপর প্রবাহিত করলাম আরিম বাঁধের বন্যা এবং তাদের উদ্যান দুটিকে পরিবর্তন করে দিলাম এমন দুটি উদ্যানে, যাতে উৎপন্ন হয় বিস্বাদ ফলমূল, ঝাউ গাছ এবং সামান্য কিছু কুল গাছ। এটি ছিল অকৃতজ্ঞতাভরে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে তাদের প্রতি আমার শাস্তি। আমি অকৃতজ্ঞ ছাড়া কাউকে শাস্তি দিই না।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ১৫-১৭) 

আল্লাহর কুদরতের বয়ান সুরা ফাতিরে 
৪৫ আয়াত বিশিষ্ট সুরা ফাতির মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরায় আল্লাহর একাত্ববাদ, সঠিক দ্বীনের ওপর থাকার তাগিদ, আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা, আল্লাহর নেয়ামত, তাঁর কুদরত ও এর নিদর্শন, এগুলোর সুস্পষ্ট দলিল, কোরআন পাঠের ফজিলত, মানুষের শ্রেণিবিন্যাস ও জান্নাতবাসী ইত্যাদি বিষয়ের বিবরণ আছে।

কোরআনের হৃদয় সুরা ইয়াসিন 
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা ইয়াসিন কোরআনের ৩৬তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ৮৩। প্রতিটি বস্তুর একটি হৃদয় আছে। কোরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি বস্তুর একটি হৃদয় আছে। কোরআনের হৃদয় ইয়াসিন। যে ইয়াসিন পড়বে, আল্লাহ তার আমলনামায় দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৭)

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, ‘সুরা ইয়াসিনকে কোরআনের হৃদয় বলার কারণ হলো, এ সুরায় কিয়ামত ও হাশর বিষয়ের ব্যাখ্যা অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। পরকালের বিশ্বাস ইমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের শুদ্ধতা নির্ভরশীল।’ (তাফসিরে রুহুল মাআনি)