logo

রাস্তা নিয়ে বিবাদে কত হাত জমি ছাড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)

রাস্তা নিয়ে বিবাদে কত হাত জমি ছাড়তে বলেছেন মহানবী (সা.)
রাস্তা বা পথে চলার কিছু আদব বা নিয়ম-কানুন রয়েছে। ছবি: লোকাল গাইডস কানেক্ট

রাস্তা নির্মাণ, রাস্তার প্রশস্ততা এবং রাস্তায় চলাচল নিয়ে সমাজে নানা রকম সমস্যা আছে। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরেও রাস্তা নিয়ে অসুবিধার শেষ নেই। শহরের প্রায় ফুটপাত বা মানুষ চলাচলের রাস্তা দখল করে আছে দোকানপাট। কোথাও ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো কোনো রাস্তা এত সরু যে, মৃত ব্যক্তির খাটিয়ে বের করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া অনেকে রাস্তার জন্য নিজের জায়গা ছাড়তে চান না। রাস্তার জায়গার জন্য সমাজে ঝগড়া হতেও দেখা যায়।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় রাস্তা নিয়ে দুজন ব্যক্তির মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়। তারা এ নিয়ে মহানবী (সা.)-এর কাছে আসেন। তখন তিনি তাদেরকে রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার ফায়সালা দেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যখন মালিকেরা রাস্তার বিষয়ে পরস্পরে বিবাদ করল, তখন নবী (সা.) রাস্তার জন্য সাত হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার ফায়সালা দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৭৩)

আরেক হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাত হাত প্রশস্ত করে রাস্তা তৈরি করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৩৫৫)

হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, ‘এই প্রশস্ততা এ জন্য যে, যাতে সেখানে যানবাহন প্রবেশ ও বের হতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়। এমনকি ওই রাস্তা ব্যবহারকারীরা যাতে তাদের প্রয়োজনীয় মালপত্রও সহজে আনা নেওয়া করতে পারেন।

ইসলামে রাস্তা বা পথে চলার কিছু আদব বা নিয়ম-কানুন রয়েছে। এগুলো মেনে চলা জরুরি। এগুলো মেনে চললে সওয়াব পাওয়া যায়। এগুলোর কোনোটিকে ইমানের শাখা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাস্তায় চলাচলের আদব হলো-

  • নম্রভাবে চলাচল করা। রাস্তায় চলার সময় গর্ব-অহংকার প্রকাশ পায়, এমনভাবে চলাচল করা মুমিনের জন্য সমীচীন নয়।
  • নিচে দৃষ্টি রাখা। ফেতনায় পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়, এমন বস্তুর দিকে তাকানো যাবে না।
  • মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। একে ইমানের শাখা বলা হয়েছে।
  • পরিচিত-অপরিচিত সব মুসলমানকে সালাম দেওয়া।
  • সবার সালামের উত্তর দেওয়া।
  • সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা।
  • সাধারণ পথিক বা পথহারাকে পথ দেখানো।
  • বোঝা বহনকারীকে সাহায্য করা।
  • অধিক পরিমাণে জিকির করা।
  • উত্তম কথা বলা।
  • অসহায়কে সাহায্য করা।
  • অত্যাচারিতকে সহযোগিতা করা।
  • রাস্তার পাশ দিয়ে নারীদের চলা।
  • দ্রুত গতিতে বাহন না চালানো।
  • হাঁচিদাতার উত্তর দেওয়া।

মানুষের এই চলার পথ নিরাপদ, নিষ্কণ্টক ও শান্তিপূর্ণ হওয়া জরুরি। পথে বা রাস্তায় চলাফেরার সময় বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলতে ইসলামে দিকনির্দেশনা রয়েছে। এগুলো মেনে চলা মুসলমানদের নৈতিক দায়িত্ব। এতে মানুষের জীবনে শান্তি আসবে। অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা কমবে।