সার্থকভাবে রমজানের শেষ দশ দিন কাটানোর ৮ উপায়

রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শেষ দশ দিন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই সময়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে আছে, রমজানের শেষ দশক শুরু হলে তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হতেন। কারণ, এই দশকের মধ্যেই রয়েছে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত—যা হাজার মাসের চেয়েও সেরা। তাই একজন মুমিনের জন্য এই সময়টিকে যথাসম্ভব ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রমজানের শেষ দশককে সার্থকভাবে কাটাতে এখানে আটটি উপায় তুলে ধরা হলো—
লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা: রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই রাতগুলোতে বেশি বেশি নামাজ, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া উচিত।
কোরআন তেলাওয়াত ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা: এই সময় কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা উচিত। তেলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের অর্থ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কোরআন অনুধাবন করতে হবে। অর্থে বুঝে কোরআন পড়তে পারলে ইসলামকে গভীরভাবে জানা যায়।
নফল নামাজ আদায়: রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ বা অন্যান্য নফল ইবাদত করা যেতে পারে। রাতের নির্জনতায় ইবাদতে অন্তরে প্রশান্তি মেলে। আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়া যায়। আল্লাহকে পাওয়ার পথ সহজ হয়।
দোয়া ও ইসতেগফার করা: রমজান চলে যাচ্ছে। আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ বয়ে যাচ্ছে। রমজান পেয়ে যদি গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া না যায়, তাহলে এর চেয়ে বড় হতভাগা আর কে আছে। এজন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। ইসতেগফার করতে হবে। এ দোয়াটি পড়া যেতে পারে—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।
ডিভাইস বা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা: মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন স্ক্রিন আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাই শেষ দশকে যতটা সম্ভব এসব ডিভাইস থেকে দূরে থাকলে ইবাদতে একাগ্রতা বাড়ে। এক্ষেত্র Kahf Guard নামের একটি মোবাইল অ্যাপলিকেশনের সহযোগিতা নিতে পারি। এর কার্যকতারিতা হলো, কোনো ডিভাইসে এই অ্যাপলিকেশনটি ইনস্টল করা থাকলে লক্ষ লক্ষ পর্নোগ্রাফিক সাইটসহ খারাপ বা অশ্লীল ছবি ও ভিডিওকে DNS লেভেলে ব্লক করে দেয়।
দান-সদকা বৃদ্ধি করা: রমজানে দানের সওয়াব অনেক বেশি। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, ইফতার করানো বা যেকোনোভাবে মানুষের উপকার করা এই সময় বিশেষ ফজিলতের কাজ।
ইতেকাফ করা: শেষ দশকে ইতেকাফ করা অত্যন্ত উত্তম আমল। এতে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে আল্লাহর ইবাদতে সম্পূর্ণ মনোযোগী হওয়া যায়। সম্ভব হলে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা যেতে পারে।
পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহ দেওয়া: শুধু নিজে ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবারের সদস্যদেরও উৎসাহ দেওয়া উচিত। একসঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া বা নফল নামাজ আদায় করলে ঘরের পরিবেশও ইবাদতময় হয়ে ওঠে।