Advertisement

সূর্যগ্রহণের সময় যে দোয়া পড়বেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সূর্যগ্রহণের সময় যে দোয়া পড়বেন
ছবি: প্রতীকী

চাঁদ যখন পরিভ্রমণ অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে কিছু সময়ের জন্য সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাই সূর্যগ্রহণ। আরবিতে বলে কুসুফ। পৃথিবী যখন তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখনই পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে চাঁদ কিছুক্ষণের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটা চন্দ্রগ্রহণ। আরবিতে একে বলে খুসুফ।

Advertisement

পবিত্র কোরআনে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে সূর্য ও চাঁদের কথা। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)

আল্লাহ আরও বলেন, ‘তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৩)

সূর্যের আলোচনায় কোরআনুল কারিমে সব জায়গায়ই ‘প্রজ্বলিত বাতি’, ‘তেজোদীপ্ত’, ‘উজ্জ্বল জ্যোতি’, ‘চমক/ঝলক’, ‘শিখা’ বলা হয়েছে। যার অর্থ সূর্য নিজে দহনক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপ ও আলো উৎপন্ন করে।

সূর্যগ্রহণ একটি সাধারণ মহাজাগতিক ঘটনা। মহানবীর যুগেও চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ দেখা দিয়েছিল। অন্য সব বিষয়ের মতো এসময় করণীয় আমল শিক্ষা দিয়েছেন তিনি উম্মতকে। তিনি এ সময় বিচলিত হয়ে যেতেন এবং বিশেষভাবে আল্লাহ তায়াকে স্মরণ করতেন।

প্রাচীনকালে সূর্যগ্রহণকে ঘিরে নিজস্ব লোককথা প্রচলিত ছিল। তারা সূর্যগ্রহণকে জীবনের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত করত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট বলেছেন, সূর্যগ্রহণ আল্লাহর নির্দশন। এর সঙ্গে কারও মৃত্যু বা জন্মের সম্পর্ক নেই। মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সময় যে দিন (তাঁর ছেলে) ইবরাহিম (রা.) মারা গেলেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইবরাহিম (রা.)-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, কারও মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৪৩)

চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি সাহাবিদের এ সময় নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনও সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৪)

সূর্যগ্রহণের সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেশি বেশি ইসতেগফার বা ক্ষমার দোয়া করা উচিত। সূর্যগ্রহণের সময় এ দোয়াটি পড়া যেতে পারে—

اللَّهمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كثِيرًا، وَلا يَغْفِر الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِر لي مغْفِرَةً مِن عِنْدِكَ وَارحَمْني، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفور الرَّحِيم

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি, জুলমান কাসিরাও, ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা, ইল্লা আংতা, ফাগফিরলি, মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আংতাল গাফুরুর রহিম।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক অপরাধ করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

এ ছাড়া আরও বিভিন্ন ইসতেগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনার দোয়া করা যেতে পারে।