logo

জিনদের কথা ও অসহায়কে ঠকানোর পরিণতি

জিনদের কথা ও অসহায়কে ঠকানোর পরিণতি
সৌদি আরবের মদিনার মসজিদে নববিতে ২৬তম তারাবি নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। সংগৃহীত ছবি

আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের ২৯তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। সুরা মুলক, সুরা কলম, সুরা হাক্কাহ, সুরা মাআরিজ, সুরা নুহ, সুরা জিন, সুরা মুজ্জাম্মিল, সুরা মুদ্দাসসির, সুরা কিয়ামাহ, সুরা দাহর ও সুরা মুরসালাত পড়া হবে। এই অংশে জান্নাত, জাহান্নাম, আল্লাহর ক্ষমতা, তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুণাগুণ, অবিশ্বাসীদের ভুল চিন্তা, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের পরিণতি, অকৃতজ্ঞতার পরিণাম, আগের জাতির ঘটনা, মানুষের স্বভাব, কিয়ামতের দিন আমলনামা প্রদান, জিনদের আলোচনা, নুহ (আ.)-এর গল্প, নবীজীবনী ও তাঁর দাওয়াত, আল্লাহর অনুগ্রহ, তাহাজ্জুদের নামাজ, কিয়ামতের অবস্থা, অবিশ্বাসীদের ধ্বংস, উত্তম উপদেশ গ্রহণ, মানুষের কৃতজ্ঞতা ও অকৃতজ্ঞতা, জান্নাতের নেয়ামত, পুনরুত্থান, মৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে।

যে কারণে জীবন-মৃত্যুর সৃষ্টি 
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা মুলক কোরআনের ৬৭তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ৩০। এ সুরা পাঠে বহু ফজিলত আছে। প্রতি রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। সুরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করা না হয়। 

আল্লাহ মানুষের জীবন ও দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষার জন্য। মানুষকে দুনিয়াতে সঠিক ও ভুল পথের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তার মতো বাঁচতে দিয়েছেন—এটা এক পরীক্ষা। যে সঠিক পথে চলে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করবে, সে থাকবে জান্নাতে। ভুল পথে চললে যেতে হবে জাহান্নামে। আল্লাহ প্রায়ই মানুষকে বিভিন্ন বিপদাপদ, দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন দিয়ে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও  জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে কাজে উত্তম। তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক, আয়াত: ২)

৯ ব্যক্তির অনুসরণ নিষেধ
আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে নয় ব্যক্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। এর বিবরণ রয়েছে সুরা কলমের ১০ থেকে ১৫ নম্বর আয়াতে। যথা—

অসহায়কে ঠকানোর পরিণাম ভয়াবহ 
তাফসিরে ফাতহুল কাদিরে আছে, ইয়েমেনের সানা থেকে ৬ মাইল দূরে একটি বিশাল বাগান ছিল। আরবদের মাঝে বাগানটির বেশ খ্যাতি ছিল। বাগানের মালিক এর থেকে উৎপন্ন ফলমূল গরিব-অসহায়দের দিতেন। তার মৃত্যুর পর সন্তানরা বলল, ‘বাগানের আয়ে নিজেদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। গরিব-অসহায়দের দেব কোত্থেকে? আমরা ভোরেই ফল আহরণ করব, যেন গরিবরা আমাদের নাগাল না পায়।’ তারা ইনশাআল্লাহও বলেনি।

 

অসহায়দের ঠকানো ও ইনশাআল্লাহ না বলার বিষয়টি আল্লাহ পছন্দ করেননি। আল্লাহ বাগানে বিপর্যয় দিলেন। বাগানটি শস্য-কাটা ক্ষেতের মতো কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গেল। পরে তারা ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। এ ঘটনার বর্ণনা আছে সুরা কলমের ১৭ থেকে ৩৩ নম্বর আয়াতে। 

সুরা হাক্কাহ, মাআরিজ ও নুহের বিষয়বস্তু
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা হাক্কাহ’র আয়াত সংখ্যা ৫২। ৪৪ আয়াত বিশিষ্ট সুরা মাআরিজ মক্কায় অবতীর্ণ। সুরা নুহ মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ২৮। এ তিন সুরায় কিয়ামতের ভয়াবহতা, কিয়ামতের আগের অবস্থা, পূর্ববর্তী জাতির পরিণতি, নেককারদের ডান হাতে ও হতভাগাদের বাঁ হাতে আমলনামা প্রদান, মহানবী (সা.)-এর নবুওয়াত, জাহান্নামে কাফেরদের টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া, মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি, মানুষ সৃষ্টি, মুমিনদের জন্য ক্ষমা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার ফজিলত ও উপকারিতা, নুহ (আ.)-এর দাওয়াত, তাঁর জাতির অবাধ্যতা, মূর্তির প্রতি কাফেরদের প্রীতি, আল্লাহর নেয়ামত ও কাফেরদের ধ্বংসের বর্ণনা রয়েছে। 

বিশ্বাসী জিনদের কথা সুরা জিনে 
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা জিনের আয়াত সংখ্যা ২৮। এটি কোরআনের ৭২তম সুরা। এ সুরায় জিনদের আলোচনা আছে, তাই একে সুরা জিন বলা হয়। সুরার ১ থেকে ১৫ নম্বর আয়াতে মহানবী (সা.)-এর কণ্ঠে জিনদের কোরআন শোনার আলাপ আছে। 

মহানবী (সা.) তখন কয়েকজন সাহাবিকে নিয়ে উকাজের বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে নাখলা নামক জায়গায় তিনি ফজরের নামাজের ইমামতি করেন। সে সময় একদল জিন ওই জায়গা অতিক্রম করছিলেন। কোরআনের তেলাওয়াতের শব্দে তারা থেমে যায়। জিনরা মহানবীর প্রতি ইমান এনে ইসলাম গ্রহণ করেন। 

আল্লাহর কাছে যাওয়ার নামাজ তাহাজ্জুদ
সুরা মুজ্জাম্মিল মক্কায় অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা ২০। এটি কোরআনের ৭৩তম সুরা। এ সুরার শুরুতে আল্লাহ মহানবীকে রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন। কারণ, তখন মহানবীকে নবুওয়াতের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছেন আল্লাহ।  আত্মসংযমের জন্য বেশি কার্যকর তাহাজ্জুদ। এটি কোরআন তেলাওয়াতের সেরা সময়।

সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে মধ্যরাতের পর শয্যাত্যাগ করা হলো তাহাজ্জুদ। রাত ২টার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ নামাজের সময়। সাহরির সময় শেষ হলে তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়। রাতের এ তাহাজ্জুদে আল্লাহর যতটা কাছাকাছি যাওয়া যায়, তাঁকে পাওয়ার জন্য মন যতটা উতলা ব্যাকুল হয়ে উঠে, চোখে যেভাবে অশ্রুর আয়োজন করে, অন্য সময়ের নামাজে এমনটা খুব বেশি হয় না। 

যেসব বিষয়ের আলোচনা আছে সুরা মুদ্দাসসির, কিয়ামা, দাহর ও মুরসালাতে
এ সুরা চারটিতে কিয়ামেতর দিন জান্নাতি ও জাহান্নামিদের অবস্থা, দ্বীনের দাওয়াত, কাফেরদের পরিণাম, মৃত্যু পরবর্তী জীবন, নসিহত, শাস্তি, মানুষ সৃষ্টির সংক্ষিপ্ত বিবরণ, মৃত্যুর সময় মানুষের অবস্থা ও কিয়ামতের পর পুনরুত্থান, মানুষের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত, মিথ্যাবাদীদের শাস্তি, মুত্তাকিদের শুভপরিণাম ও জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদির আলোচনা আছে।