যে ৩ সময়ে নামাজ পড়া নিষেধ

নামাজ ফরজ ইবাদত। কোরআনে নামাজের সুস্পষ্ট আদেশ করা হয়েছে এবং বারবার বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত আদায় কর এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে ধর। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। তিনি কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৭৮)
প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ের ভেতর আদায় করতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে (আদায় করা) ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনটি কখন আদায় করতে হবে—রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিবরাইল (আ.) শিখিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) কাবাঘরের কাছে এসে দুবার আমার নামাজের ইমামতি করেন। তিনি আমাকে জোহরের নামাজ পড়ালেন যখন সূর্য মাথার ওপর থেকে একটু ঢলে যায় এবং তার ছায়াটা জুতোর চামড়ার মতো হয়। পরে তিনি আমাকে মাগরিবের নমাাজ পড়ালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান হয়। এরপর তিনি আমাকে মাগরিব নামাজ পড়ালেন যখন রোজাদাররা ইফতার করে (সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে)। এরপর তিনি আমাকে এশা পড়ালেন যখন শাফাক বা সন্ধ্যা বেলায় পশ্চিমাকাশের লাল রং দূর হয়ে যায়। এরপর তিনি আমাকে ফজরের নামাজ পড়ালেন যখন রোজাদারের ওপর খাওয়া ও পান করা হারাম হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনে তিনি আমাকে সেই সময় জোহর পড়ালেন যখন তার ছায়া সমান হয় এবং ছায়া দ্বিগুণের সময় আসর পড়ালেন। রোজাদারের ইফতারের সময় মাগরিব পড়ালেন এবং তিন ভাগের একভাগ রাত গত হয়ে যাওয়ার পর এশা পড়ালেন। ফজর তখন পড়ান, যখন ফর্সা হয়ে যায়। এরপর তিনি আমার দিকে মুখ করে বললেন, হে মুহাম্মদ, এটা আপনার আগের নবীদের সময় এবং এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময় হলো প্রকৃত সময়।’ (সুনানে আবু দাউদ, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৫৯)
এমন কিছু সময় রয়েছে, যখন নামাজ পড়া বরং শরিয়তের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ। এই সময়গুলোতে ফরজ, ওয়াজিব ও নফল কোনো ধরনের নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। এমনকি কাজা নামাজও পড়া যাবে না। যথা—
- সূর্যোদয়ের সময়। সূর্য পুরোপুরি উদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত নামাজ পড়া যাবে না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৮)
- সূর্য মধ্যাকাশে অবস্থানের সময়। সূর্য ঢলে পড়লে পুনরায় নামাজ পড়ার বৈধ সময় শুরু হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৭৩)
- সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে কারও যদি আসর নামাজ পড়তে দেরি হয়ে যায়, তাহলে সে ব্যক্তি সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত আদায় করতে পারবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪৫)
আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘ফজরের পর সূর্য ওপরে ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৬)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি ফজরের নামাজ আদায় করবে, এরপর নামাজ থেকে বিরত থাকবে সূর্য উদিত হয়ে (কিছুটা) ওপরে ওঠা পর্যন্ত। কারণ তা উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে আর কাফেররা তখন সূর্যকে সিজদা করে। এরপর নামাজ আদায় করতে পার। কারণ নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত হন এবং সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। এটা বর্শার ছায়া একেবারে কমে যাওয়া পর্যন্ত। এরপর নামাজ থেকে বিরত থাকবে। কারণ তখন জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা হয়। যখন ছায়া ফিরে আসে তখন নামাজ আদায় করবে। কারণ নামাজে (ফেরেশতারা) উপস্থিত হন এবং সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। এটা আসরের নামাজ আদায় করা পর্যন্ত। এরপর নামাজ থেকে বিরত থাকবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। কারণ তা অস্তমিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে আর কাফেররা তখন সূর্যকে সিজদা করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৩২)
নিষিদ্ধ সময়ে জানাজার নামাজ পড়া যাবে
নামাজের নিষিদ্ধ সমেয় জানাজার নামাজ আদায় করা যাবে। তবে তা মাকরুহ। কেউ যদি এ সময় আয়াতে সিজদা পাঠ করে, তাহলে তিনি সিজদায়ে তেলাওয়াত করতে পারবেন, তবে তা মাকরু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৩১)



