logo

রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে?

রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে?

কাউকে রোজা রেখে দিনের বেলায় চোখে ড্রপ দিতে হয়। রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে দ্বন্দ্বে ভোগেন অনেকে—রোজা ভেঙে যাবে এ ভয়ে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে। ব্যবহার করা যাবে তরল ওষুধ। এতে রোজার কোনো সমস্যা হবে না। রোজা ভাঙবে না। কারণ, চোখে ড্রপ দেওয়া বা তরল ওষুধ ব্যবহার করা পানাহারের অন্তর্ভুক্ত নয়। পানাহারের দ্বারা যে উদ্দেশ্য পূরণ হয়, ড্রপ ব্যবহারে সে উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।  

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, চোখ থেকে সরাসরি পাকস্থলীতে কোনো কিছু পৌঁছার পথ নেই। তাই রোজা রেখে চোখে ড্রপ ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই। যদিও ড্রপ বা তরল জাতীয় বস্তুটি গলায় চলে যাওয়ার শঙ্কা আছে, কিন্তু হাদিসে বিষয়টি সরাসরি থাকার কারণে এটাকে জায়েজ বলেছেন ইসলামি স্কলাররা। 

চোখে ড্রপ ব্যবহারের ব্যাপারটি চোখে সুরমা দেওয়ার মতোই। রোজা রেখে চোখে সুরমা দিয়েছেন নবীজি (সা.)। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রোজা অবস্থায় চোখে সুরমা ব্যবহার করেছেন নবীজি (সা.)।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৬৮৭)  

আনাস (রা.) বলেন, ‘এক লোক নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে জানতে চাইল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার চোখে অসুখ হয়েছে। রোজা রেখে আমি চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারব?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮২) 

 

রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে কোনো কিছু প্রবেশ করা। চোখ স্বাভাবিক প্রবেশপথ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শরীর থেকে কোনো কিছু বের হলে অজু করতে হয়, প্রবেশ করলে নয়। পক্ষান্তরে রোজা এর উল্টো। রোজার ক্ষেত্রে কোনো কিছু শরীরে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়, বের হলে নয় (তবে বীর্যপাতের প্রসঙ্গটি ভিন্ন)।’ (নাসায়ি, ৪/২৬১; ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৩)