টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া

পায়খানা-প্রস্রাব সারতে টয়লেটে যেতে হয়। এ সময় দুষ্ট জিনের বদনজর থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরি। টয়লেটে প্রবেশের আগে ও পরে যাবতীয় অনিষ্টতা ও ক্ষতি থেকে বাঁচতে দোয়া পড়া সুন্নত। টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।
টয়লেটে প্রবেশের দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নোংরা জায়গাগুলো জিন ও শয়তানদের থাকার জায়গা। অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ যখন প্রস্রাব-পায়খানায় যায়, সে যেন এই দোয়া বলে—
اللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা, মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুষ্ট পুরুষ-জিন ও দুষ্ট নারী-জিনের অনিষ্ট থেকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২)
টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া
الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِّيْ الْاَذَى وَعَافَانِيْ
বাংলা উচ্চারণ : আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি, আজহাবা আন্নিল আজা, ওয়া আফানি।
বাংলা অর্থ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বিষয়সমূহ দূর করেছেন এবং আমাকে নিস্তার দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩০)
টয়লেটে জিকির বা কথা বলা নিষেধ
টয়লেট করা অবস্থায় জিকির করা ও কথা বলা মাকরুহ। চাই দেয়ালঘেরা বাথরুম হোক বা খোলা হোক। দোয়া ও জিকির এবং সব ধরনের কথা নিষিদ্ধ। তবে একান্ত প্রয়োজনীয় কথার বিষয়টি ভিন্ন। এমনকি, হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা, হাঁচির জবাব, সালামের উত্তর, মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়া যাবে না। সালামকারী উত্তর কামনা করতে পারবে না। এগুলো সব অপছন্দীয় কাজ, হারাম নয়।
কেউ যদি হাঁচি দেয় এবং মনে মনে জিহ্বা না নাড়িয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি নবি (সা.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি পেশাব করছিলেন, লোকটি নবী (সা.)-কে সালাম দিলেন; তবে তিনি সালামের উত্তর দেননি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৭০)