নাকের শ্লেষ্মা গলার ভেতর গেলে কি রোজা ভাঙবে

অনেকের সর্দির কারণে নাক দিয়ে অনবরত শ্লেষ্মা আসে। শ্লেষ্মা গলার ভেতরে চলে যাওয়াটা রোজাদারের জন্য অস্বস্তির কারণ। অনেকে এ কারণে রোজা ভেঙে গেছে কিনা দ্বিধায় পড়ে যান। ইসলামিক স্কলাররা বলেন, ‘রোজা অবস্থায় নাকের শ্লেষ্মা গলার ভেতরে চলে গেলে রোজা ভাঙে না। এর জন্য কোনো কাজা-কাফফারা আসবে না।’ (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২০৭)
যেসব কারণে রোজা ভাঙে না, এখানে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—
- অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলাবালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
- অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
- বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
- চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
- ইনজেকশন নেওয়া।
- ভুলক্রমে পানাহার করা।
- সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।
- নিজ মুখের থুতু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।
- শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
- ঠান্ডার জন্য গোসল করা।
- দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
- মিসওয়াক করা।
- স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে বীর্যপাত হলে।
- দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত বা যে কোনো খাবার খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে না, যদি তা ছোলার দানার চেয়ে কম পরিমাণ হয়। যদি কম হওয়ার পরও মুখ থেকে বের করে পুনরায় গিলে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।
এমন কিছু কারণ আছে, যার কারণে রোজা ভেঙে যায়। এখানে রোজা ভঙ্গের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো—
সহবাস করা: রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। ওই রোজা ফরজ, ওয়াজিব বা নফল হোক না কেন। সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভেঙে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯১৩১)
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা: রোজা পালনের মৌলিক আদেশগুলোর অন্যতম পানাহার থেকে বিরত থাকা। ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (সুনানে দারা কুতনি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৯১)
ইচ্ছা করে বীর্যপাত ঘটানো: বিভিন্ন যৌনঘটিত কারণে কিংবা হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৬৪)
ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা: যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বা পরিমাণে অনেক বমি করে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭২০)
নারীদের হায়েজ (মাসিক) ও নেফাস (প্রসূতিবস্থা) শুরু হলে: রোজা অবস্থায় কোনো নারীর হায়েজের (মাসিক) রক্ত দেখা দেয় অথবা নেফাসের অবস্থার শুরু হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (আল-মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০১)