logo

ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে?

ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে?

রোজা রাখা সওয়াবের কাজ। এতে গুনাহ মাফ হয়। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন হয়। রোজা একমাত্র আমল, যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। এছাড়া অন্যান্য সময় নফল রোজা রাখা যায়। 

রোজা রাখা সওয়াবের কাজ হলেও পাঁচটি দিন এমন আছে, যখন রোজা রাখা যায় না। এ সময় রোজা রাখলে সওয়াবের পরিবর্তে পাপ হয়। কারণ, এই দিনগুলো আনন্দ উদযাপনের জন্য। 

রোজা রাখার নিষিদ্ধ পাঁচটি দিন হলো—১. ঈদুল ফিতরের দিন। ২. ঈদুল আজহার দিন (জিলহজ মাসের দশ তারিখ)। ৩. জিলহজ মাসের এগারো তারিখ। ৪. জিলহজ মাসের বারো তারিখ। ৫. জিলহজ মাসের তেরো তারিখ। শেষের তিনটি দিনকে আইয়ামে তাশরিকের দিন বলা হয়। 

আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ও কোরবানির দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৯২)

আরেক হাদিসে আছে, আবু উবাইদা (রা.) বলেন, ‘আমি ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। তিনি বলেছেন, ‘এ দুই দিনের রোজা রাখতে নবী (সা.) নিষেধ করেছেন। প্রথম দিন হলো, যখন তোমরা রোজা শেষ করো, আর দ্বিতীয় দিন হলো, যখন তোমরা কোরবানির মাংস খাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৫১) 

 

কোরবানির ঈদের পর তিন দিন রোজা রাখা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তাশরিকের দিনগুলো (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) হচ্ছে পানাহার ও আল্লাহকে স্মরণ করার দিন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪১) 

শাইখ উসাইমিন (রহ.) বলেন, ‘কারও যদি দুই মাসের লাগাতার রোজা রাখা ফরজ হয়ে থাকে, সে ব্যক্তিও ঈদের দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন রোজা রাখবে না। এ দিনগুলোর পর পুনরায় লাগাতার রোজা থাকা শুরু করবে।’ (ফাতাওয়া রমাদান, ৭২৭)