রমজানের শেষের যে আমল কখনও ছাড়েননি মহানবী (সা.)

রমজানের রহমত ও মাগফিরাতের সময় চলে গেছে। নাজাতেরও শেষ হয়েছে চার দিন। হাদিসে আছে, রমজান পেয়েও যে গুনাহ মাফ করাতে পারল না, সে বড় হতভাগা।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মাসে বেশি বেশি আমল করতেন। কোরআন তেলাওয়াত করতেন। দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ পড়তেন। দান-সদকা করতেন। এ মাসে মহানবী (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ছিল ইতেকাফ করা। তিনি রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। তিনি জীবদ্দশায় কখনো ইতেকাফ ছাড়েননি। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশক (মসজিদে) ইতেকাফ করতেন। এ আমল তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ইতেকাফ পালন করেছেন। মৃত্যুর বছর তিনি বিশ দিন ইতেকাফ করেছেন। শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রমজানে ইতেকাফ ছাড়েননি তিনি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানে দশ দিন ইতেকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি বিশ দিন ইতেকাফে কাটান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৩)
আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উত্তম পন্থা ইতেকাফ। মানবিক সব চিন্তা-ভাবনার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে একজন মানুষ ইতেকাফে একান্তে আল্লাহর ধ্যানে বসার সুযোগ লাভ করেন। এটি এমন ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা দুনিয়ার কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একান্তভাবে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে আত্মনিবেদন করে।
হৃদয়ের শুদ্ধতা ও আল্লাহর পথে দৃঢ়তা নির্ভর করে তার দিকে পূর্ণ মনোযোগী হওয়ার ওপর। ইতেকাফ একজন মানুষের ওপর এমনভাবে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব বিস্তার করে, যা তাকে দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে পরহেজগারির সঙ্গে পরিচালিত হতে সহযোগিতা করে।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইতেকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রত্যেক পরিখার প্রশস্ততা দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি।’(শুআবুল ইমান, বাইহাকি, বর্ণনা: ৩৬৭৯)
রমজানের শেষ রাতগুলো তাহাজ্জুদ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরসহ অন্যান্য আমলের মাধ্যমে কাটানো উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরো রাত জেগে বিভিন্ন আমলে নিমগ্ন থাকতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন। রাত জাগতেন ও পরিবারের সবাইকে জাগিয়ে দিতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯২০)