logo

শুঁটকি মাছ খাওয়া কি জায়েজ

শুঁটকি মাছ খাওয়া কি জায়েজ

তাজা মাছ ভালো করে রোদে শুকানোর পর মাছ থেকে জলীয় অংশ শুকিয়ে যায়। এতে ওই মাছে আর মাইক্রো অর্গানিজম জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে না। এই প্রক্রিয়ায় মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। একে বলা হয় শুঁটকি। শুঁটকির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ অনেক দিন সংরক্ষণ থাকে। শুঁটকি মাছ খাওয়া হালাল। ইসলামি শরিয়তে শুঁটকি মাছ খাওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। 

জীবিত বা মৃত সব ধরনের মাছ খাওয়া জায়েজ। ইসলামে সব ধরনের মাছ খাওয়ার অনুমতি আছে। পদ্ধতিগতভাবে কেউ রান্না করে খায়, কেউ শুঁটকি বানিয়ে খায়। এতে কোনো অসুবিধে নেই। আল্লাহ বলেন, ‘সমুদ্রের শিকার তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯৬) 

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত হালাল।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬৯) 

একটি মাছ ১৮ দিন খেয়েছিলেন সাহাবিরা। পরে এর অংশ রাসুলুল্লাহ (সা.)ও খেয়েছিলেন। হাদিসে আছে, জাবের (রা.) বলেন, ‘আবু উবাইদাহ ইবনে জাররা (রা.)-এর নেতৃত্বে উপকূলবর্তী অঞ্চলে একদল সাহাবিকে পাঠানো হলো। সেখানে তাদের খাদ্য শেষ হয়ে যায়। একসময় নদীতীরে বিশাল আকৃতির এক মাছ দেখতে পান তারা। মাছটি দেখতে উঁচু টিলার মতো ছিল। এটির পাঁজরের দুই হাড়ের মধ্য দিয়ে সওয়ারিসহ একটি উট অবলীলায় চলে গিয়েছিল। ৩০০ জন সাহাবি একাধারে ১৮ দিন পর্যন্ত সেই মাছটি খেয়েছিলেন। এর কিছু অংশ তারা মদিনায় নিয়ে আসেন। পুরো ঘটনা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খুলে বলেন। তিনি বললেন, ‘এটি হচ্ছে রিজিক—যা আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। তোমাদের কাছে অবশিষ্ট কিছু গোশত থাকলে আমাদের খেতে দাও।’ তখন তাঁকে কিছু অংশ দেওয়া হয়। তিনি তা খান। (মাছটির নাম ছিল আম্বর বা তিমি)’। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৪৩) 

 

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে ‘শুঁটকি মাছ খাওয়া হালাল নাকি হারাম’ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘শুঁটকি মাছ বা শুঁটকি খাওয়া হালাল। এতে নাজায়েজ বা সন্দেহের কিছু নেই। মাছ খাওয়া হালাল। মাছকে কি আপনি শুঁটকি বানিয়ে খাবেন নাকি হালুয়া কিংবা ফ্রাই করে খাবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। মাছ হালাল প্রাণী। এটি মারা গেলেও খাওয়া যায়। জবাই করার প্রয়োজন হয় না।’