logo

রোজা রেখে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

রোজা রেখে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে?

রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে। এতে রোজা ভাঙে না। তবে ব্রাশ করার সময় সতর্ক থাকতে হবে, পেস্ট বা মাজন যেন পেটে চলে না যায়। পেস্ট অথবা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ১৪১)

কেউ কেউ বলেন, টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। তবে ভেঙে যায়—এমন কথা কেউ বলেননি। তবে সবচেয়ে ভালো হয়, সাহরি খাওয়ার পর ও ইফতারের পর পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা।

দিনের বেলা মিসওয়াক ব্যবহার করা ভালো। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে মিসওয়াকের অভ্যাস করা যেতে পারে। মিসওয়াক করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মিসওয়াক করো। কেননা তা মুখের পবিত্রতার উপায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যম।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) যখনই আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। তাতে আমার ভয় হতে লাগল যে, আমি আমার মুখের সামনের দিক ক্ষয় করে ফেলব।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২১৭০)

 

রোজাদারদের আখেরাতে যেমন অনেক নেয়ামত দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে, তেমনি দুনিয়াতেও তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানসূচক বিশেষ প্রশংসা ও মর্যাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)

রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ তাআলার কাছে মেশকের চেয়েই উত্তম, ভালো ও প্রিয়। কারণ, এ গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে তাঁর ইবাদত পালন ও হুকুম পালনের অনুবর্তী হওয়ার ফলে। মুখের গন্ধ মৌলিকভাবে প্রিয় ও ভালো নয়; বরং তা দূর করাই মুমিনের কাজ।