logo
Advertisement

কাউকে সামনাসামনি দোষারোপ করা যে গুনাহ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কাউকে সামনাসামনি দোষারোপ করা যে গুনাহ
প্রকৃত মুসলিম তার কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্য মুসলিমদের ক্ষতি থেকে বিরত থাকেন। ছবি: এডোবি স্টক

সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সরাসরি কাউকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলে অপমান করতে পছন্দ করেন। কেউ আবার গর্ব করে বলেন, ‘আমি উচিত কথা বলতে কাউকে ছাড়ি না’, ‘আমি উচিত কথা মুখের ওপর বলে দিই’। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এই মানুষগুলোকে লুমাজাহ বলে উল্লেখ করেছেন।

লুমাজাহ হলো, সরাসরি কাউকে লাঞ্চিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। কাউকে তাচ্ছিল্য ভরে কোনো কিছু নির্দেশ করা (আঙুল, চোখ, মাথা বা ভ্রু দিয়ে)। কারও অবস্থান বা পদবি নিয়ে তাকে ব্যঙ্গ করা। কারও বংশের নিন্দা করে বা বংশ নিয়ে কথা বলা। কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলা, অপমান করা। কারও মুখের ওপর তার সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করা। সরাসরি বাজে কথা দিয়ে কাউকে আঘাত করা। কাউকে এমন কোনো কথা বলা, যাতে আরেকজন কষ্ট পায়।

তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। তাদের শাস্তির বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘বহু দুঃখ আছে প্রত্যেক এমন ব্যক্তির, যে পেছনে অন্যের বদনাম করে (এবং) মুখের ওপরও নিন্দা করে...তাকে তো ফেলা হবে হুতামায়। হুতামা কি তা জানো? এ আল্লাহরই প্রজ্বলিত হুতাশন, যা হৃৎপিণ্ডকে গ্রাস করবে, ওদেরকে বেঁধে রাখবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভে।’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত: ১ ও ৫-৯)

এই আয়াতগুলো দিয়ে বোঝা যায়, যারা মানুষের সামনে নিন্দা করে, তাদের হুতামায় নিক্ষিপ্ত হতে হবে। হুতামা হচ্ছে আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে; উঁচু স্তম্ভ পরিবেষ্টিত জাহান্নাম।

সামনাসামনি কাউকে দোষারোপ করার অর্থ হলো কাউকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। কারওর প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে ইঙ্গিত করা। কারও মুখের ওপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করা। এসবই মারাত্মক গুনাহ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা পরোক্ষ নিন্দা করে, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ লোকদের দোষ খুঁজে ফিরে।’ (মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২২৭)

প্রকৃত মুসলিম পরিপূর্ণভাবে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে। সে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামের বিধান মেনে চলে। সে কাউকে গালিগালাজ করে না, কারও নিন্দা করে না। কারও ওপর চড়াও হয় না, কাউকে আঘাত করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০)

প্রকৃত মুসলিম তার কথা ও কাজের মাধ্যমে অন্য মুসলিমদের ক্ষতি থেকে বিরত থাকেন। জিহ্বা দিয়ে ক্ষতি বলতে গিবত, অপবাদ, অশ্লীল কথা এবং হাত দিয়ে ক্ষতি বলতে অন্যায়ভাবে আঘাত করা, সম্পদ হরণ বা অন্য কোনো ক্ষতি করা বোঝায়। হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, ‘সত্যিকারের নেককার ব্যক্তি তারা, যারা এমনকি পিঁপড়া বা কীটপতঙ্গেরও ক্ষতি করেন না।’ (আল-মুসলিম মিন সালিমাল মুসলিমুন, পৃষ্ঠা: ৫২, দারুল হিকমা, কায়রো, ২০২০)