রোজা রেখে কি ইনজেকশন নেওয়া যাবে

বিভিন্ন রোগের কারণে অনেককে প্রায়শই ইনজেকশন নিতে হয়। আবার অনেকের নিয়মতান্ত্রিকভাবে সপ্তাহব্যাপী বা তারিখ নির্ধারণ থাকে ইনজেকশন নেওয়ার। সেটা রোজার দিনগুলোতেও হয়ে থাকে। কারও আবার অসুস্থতার কারণে রোজা রেখেই ইনজেকশন নিতে হয়। প্রশ্ন হলো, রোজা রেখে ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি না? এতে রোজা ভাঙবে কি না?
প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা ফরজ। রোজা মুমিন জীবনে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। রোজার মাধ্যমে তাকওয়া (আল্লাহভীতি) তৈরি হয়। গুনাহ মাফ হয়। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের মানুষের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
ইসলামি স্কলারদের মতে, রোজা রেখে ইনজেকশন নিলে রোজা ভাঙবে না। চাই তা মাংসে নেওয়া হোক বা রগে নেওয়া হোক। কারণ, ইনজেকশনের সাহায্যে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ হওয়া ওষুধ মাংস বা রগের মাধ্যমেই প্রবেশ করানো হয়ে থাকে, যা অস্বাভাবিক প্রবেশপথ। তাই এটি রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ নয়। ইনজেকশন দেওয়া হয় ত্বকে, এতে শরীরের শক্তিও বাড়ে না। (আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২১৪; আলাতে জাদিদা কে শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠা: ১৫৩)
তবে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য ইনজেকশন নিলে রোজা ভেঙে যাবে। (কিতাবুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৯১)
যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়
- রোজা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। ওই রোজা ফরজ, ওয়াজিব বা নফল হোক না কেন। সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভেঙে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯১৩১)
- ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (সুনানে দারা কুতনি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৯১)
- বিভিন্ন যৌনঘটিত কারণে কিংবা হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৬৪)
- যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বা পরিমাণে অনেক বমি করে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭২০)
- যদি রোজা অবস্থায় কোনো নারীর হায়েজের (মাসিক) রক্ত দেখা দেয় অথবা নেফাসের অবস্থার শুরু হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (আল-মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০১)