কদরের রাতে যে ১০ আমল করবেন

রমজানের শেষ দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত শবেকদর বা লাইলাতুল কদর। পবিত্র কোরআনে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’ (সুরা কদর, আয়াত: ৩)
এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাস ইবাদত অপেক্ষা বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই প্রত্যেক মুমিনের উচিত, এ বরকতময় রাতকে যথাসম্ভব ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা। এ রাতে করা যায়, এখানে এমন দশটি আমল তুলে ধরা হলো—
নফল নামাজ পড়া কদরের রাতে নফল নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করতেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময় এত বেশি আমল করতেন না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭৫)। নফল নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। তাই এই রাতে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা উচিত।
ছয় রাকাত আওয়াবিন মাগরিব নামাজের পর ছয় রাকাত আওয়াবিন নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মাগরিবের পর ছয় রাকাত নফল (আওয়াবিন নামাজ) পড়ে এবং তার মাঝখানে কোনো মন্দ কথা না বলে, তাকে বারো বছর ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১৬৭)
তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। মহানবী (সা.) নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং সাহাবিদেরও তা পড়তে উৎসাহ দিতেন। রমজানে শেষ রাতে সাহরি খাওয়া হয়। এটি তাহাজ্জুদেরও সময়। এসময় দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কদরের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে বিনয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে আশা করা যায়।
সালাতুত তাসবিহ পড়া সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ। এই নামাজ আদায়ে অতীতের গুনাহ মাফ হয়। জীবনে একবার হলেও চার রাকাত বিশিষ্ট এ নামাজ পড়তে বলেছেন নবী (সা.)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২৯৭)। শবে কদরের মতো বরকতময় রাতে সালাতুত তাসবিহ পড়লে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কোরআন তেলাওয়াত লাইলাতুল কদরে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ রাতে কোরআন তেলাওয়াত করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আমল। মনোযোগ সহকারে কোরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের চেষ্টা করা একজন মুমিনের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।
দোয়া পড়া শবেকদরের জন্য মহানবী (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন। আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, যদি আমি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া পড়ব?’ তখন তিনি বলেন, এই দোয়াটি পড়বে—
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)
দরুদ শরিফ পাঠ দরুদ শরিফ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর রহমত বর্ষণ করেন। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)
তওবা ও ইসতেগফার করা গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। গুনাহ করার পর মানুষ যদি আন্তরিকভাবে তওবা করে এবং ভবিষ্যতে এমন পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ক্ষমা করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় শয়তান বলেছে, ‘হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের শপথ করে বলছি, আপনার বান্দাদের শরীরে প্রাণ থাকা পর্যন্ত আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার ইজ্জত ও শ্রেষ্ঠত্বের শপথ করে বলছি, তারা যে পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকবে, আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকব।’ (সহিহুল জামে, হাদিস: ১৬৫০)
জিকির-আজকার করা আল্লাহর স্মরণে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে বান্দা সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)
সবার জন্য দোয়া করা কদরের রাতে নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি বাবা-মা, পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়দের জন্যও দোয়া করা উচিত। হাদিস শরিফে দোয়াকে সমস্ত ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। লাইলাতুল কদরে যারা দোয়া করে, ফেরেশতারা তাদের দোয়ার মধ্যে ‘আমিন, আমিন’ বলতে থাকেন। এতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এই মহিমান্বিত রাতে তাই বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।


