অনুমতি ছাড়া কি অন্যের জিনিস ব্যবহার করা যাবে

তখন শহরের এক মাদ্রাসায় ক্লাস এইটে পড়ি। আমরা ১০ জন এক রুমে থাকতাম। এর মধ্যে পাঁচজনই ছিলাম ছেলেবেলার বন্ধু। বন্ধু ফারহানের বাবা প্রবাসী। সে বাবার পাঠানো বিদেশি শ্যাম্পু, সাবান নিয়ে আসত মাদ্রাসায়। তার শ্যাম্পু, সাবান অন্যরা ব্যবহার করলে প্রায়ই রাগ করত। সে শ্যাম্পুর বোতলে দাগ কেটে কেটে প্রমাণ পেশ করত। আমরা পরস্পরকে দেখতাম তখন। কেউ কিছু বলত না। স্বীকারও করত না।
ফারহানের জন্য দুঃখ হতো না আমাদের। তবুও আমরা তাকে সান্ত্বনা দিতাম। কাজ হতো না। পরে ফারহান বিদেশি শ্যাম্পু, সাবান আনা বন্ধ করে দিল। ক্লাসমেট ফাহিম-ফরহাদ বলত, ‘আরে ফারহান আমাদের বন্ধু ও ক্লাসমেট। তার জিনিস ব্যবহারে অসুবিধে নেই, অনুমতি নিতে হবে কেন? বছর শেষে বলে-কয়ে ক্ষমা চেয়ে নেব।’
তখন খেয়ালি আর হেঁয়ালিপনায় আমাদের বহু দিন গেছে। অনুমতি ছাড়া বন্ধুদের জিনিস ব্যহারের সময় গেছে। আমরা এসব নিয়ে তেমন ভাবিনি। আজ যখন হাদিস পড়ি, অন্যের জিনিস ব্যবহারে অনুমতি নেওয়া ধর্মের আবশ্যকীয় বিধান জানি, তখন আফসোস হয় সেইসব দিনগুলোর জন্য।
আপনি হয়তো অফিসে, বাসায়, ছাত্রাবাসে কিংবা পরিচিত মহলে মালিকের অনুমতি ছাড়া তার জিনিস ব্যবহার করছেন। একজনের বক্স থেকে অনুমতি ছাড়া টিস্যু নিয়ে নিচ্ছেন, হয়তো কারও গামছায় হাত মুছতে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। রুমমেটের লোশন, তেল, শ্যাম্বু বা সাবান ব্যবহারে অনুমতি নিচ্ছেন না। কিন্তু জানেন কী, অনুমতি না নিয়ে অন্যের জিনিস ব্যবহার করা নাজায়েজ, হারাম।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অনুমতি ছাড়া কারও জিনিস ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোনো লোক এমন কাপড়ে হাত মোছবে না, যা তাকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮২৭)
অথচ আমরা এই কাজটা সবচেয়ে বেশি করি। অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহার করি; এমনকী অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করি না। একটুও অনুশোচনা জাগে না। বন্ধুদের টিস্যু, পেস্ট, পারফিউম ও লোশন-ফেসওয়াশ দেদারসে ব্যবহার করতে থাকি। অথচ ইসলামের ভাষ্যমতে অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহার করা যাবে না।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেন, তার ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যতায় আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন, ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নেয়ামাতের কোনো অংশই পাবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৫৯)
অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে কোরআনে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)


