যে গুনাহে সাজা হবে ১০ গুণেরও বেশি

মানুষমাত্রই ভুল করে। গোনাহ করে। ইসলাম সব ধরনের গোনাহ থেকে মানুষকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সব গোনাহ ছেড়ে দাও। যারা গুনাহ করে, শিগগিরই তাদের তাদের কৃত গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১২০)। মুমিন-মুসলমানের উচিত, গুনাহ করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে তওবা করা। গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
ইসলামে একটি সৎ কাজের সওয়াব দশ গুণ থেকে বাড়িয়ে সাতশ গুণ বা এর চেয়ে বেশি দেওয়া হয়। একটি অসৎ বা পাপ কাজ করলে একটি গুনাহ লেখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা সৎ-অসৎ চিহ্নিত করে রেখেছেন। যে সৎ কাজের সংকল্প করে, কিন্তু তা করেনি আল্লাহ তাআলা তার জন্য একটি পূর্ণ সওয়াব লিখে নেন। আর যদি সৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবায়ন করে, আল্লাহ তাআলা তাকে এই একটি সৎ কাজের জন্য দশ থেকে সাতশ গুণ, বরং বহুগুণ পর্যন্ত সৎ কাজ হিসেবে লিখে রাখেন। যে অসৎ কাজের সংকল্প করে বাস্তবে না করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য একে একটি পূর্ণ নেক কাজ হিসেবে লিখে নেন। আর যদি অসৎ কাজের সংকল্প করার পর তা বাস্তবে করে, তাহলে আল্লাহ এর জন্য একটি গুনাহ লিখে রাখেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪৯১)। কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্রে এমন একটি অসৎ বা মন্দ কাজ আছে, এর একটির সাজা অন্য দশটি মন্দ কাজের সমান। ব্যক্তিকে এমন একটি অসৎ বা পাপের জন্য দশটি মন্দ কাজের শাস্তি দেওয়া হবে।
মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘কারও সঙ্গে ব্যভিচার করাকে তোমরা কীভাবে দেখ?’ সাহাবিরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এটা তো হারাম, আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। অপরাধসমূহের মধ্যে বড় মারাত্মক অন্যায় কাজ।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘প্রতিবেশী কোনো নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করা অন্য যে কোনো দশ নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিবেশীর কোনো কিছু চুরি করা অন্য দশ ঘরে চুরি করার চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।’ (মুসনাদে আহমদ)
এ হাদিসে প্রতিবেশীর সঙ্গে দুটি অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন মহানবী (সা.)। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি অন্য কোথাও সম অপরাধের দশ গুণ বেশি গুনাহ পাবে। দশ গুণ বেশি শাস্তি ভোগ করবে। তাই প্রতিবেশীর সঙ্গে কোনো ধরনের অন্যায় অপরাধ করা যাবে না। চাই সে স্থায়ী প্রতিবেশী হোক কিংবা অস্থায়ী প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কোনো অপরাধের শাস্তি দশ গুণ ভোগ করতে হবে।
প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করো না। পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, নিকটবর্তী প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশী, সহকর্মী, পথিক ও দাস-দাসীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী-দাম্ভিককে পছন্দ করেন না।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬)