অমুসলিমকে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে?

ঈদুল আজহা মুসলিম জাতিকে ত্যাগ, আনুগত্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই দিনে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন। গোশত নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করেন। এতে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। ঈদের খুশিও বেড়ে যায় বহুগুণ।
ইসলাম মানবতার ধর্ম। এটি শুধু মুসলমানদের প্রতি সদাচরণ শেখায় না, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও ন্যায়, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যারা দ্বীনের বিষয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ৮)। এই আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, সবার সঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সাহাবিরা অমুসলিম প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতেন। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, ‘আমি একবার আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর কাছে ছিলাম। তার চাকর একটি বকরির চামড়া ছাড়াচ্ছিল। তিনি বললেন, ‘হে চাকর, কাজ শেষ হলে আমাদের ইহুদি প্রতিবেশী থেকে (গোশত বণ্টন) শুরু করো।’ তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ’ইহুদি প্রতিবেশী?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রতিবেশী সম্পর্কে এত বেশি উপদেশ দিতে শুনেছি যে, আমরা ধারণা করেছিলাম তিনি হয়তো তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০১৫)
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘প্রতিবেশী, সহকর্মী বা পরিচিত অমুসলিমদের কোরবানির গোশত উপহার দেওয়া যাবে। এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায় এবং ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।’
হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে, ‘কোরবানির গোশত ধনী-গরিব উভয়কেই দেওয়া যাবে, এমনকি মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদেরও দেওয়া বৈধ। (ইলাউস সুনান, খণ্ড: ১৭, পৃষ্ঠা: ২৫৮)
অমুসলিম প্রতিবেশীর কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় দাওয়াতি কাজেও ভূমিকা রাখে। মুসলমানদের আচরণগত সৌন্দর্য দেখে তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে।



